উন্নত AI ভিডিও ছড়িয়ে যুদ্ধে এগিয়ে থাকার বার্তা দিচ্ছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে আরেক ধরনের যুদ্ধ—তথ্যযুদ্ধ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে পিছিয়ে পড়ার পর এখন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বৈশ্বিক জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ইরান। সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা Bridget Bean সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এমন ছবি, ভিডিও এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করছে যাতে মনে হয় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘাতে এগিয়ে আছে—যদিও বাস্তব সামরিক পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।
উন্নত AI ভিডিও ছড়িয়ে যুদ্ধে এগিয়ে থাকার বার্তা দিচ্ছে ইরান
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা Cybersecurity and Infrastructure Security Agency (CISA)-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক Bridget Bean যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান The Ingraham Angle–এ বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় ইরান এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণায় জোর দিচ্ছে। উন্নত AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিও, ছবি ও অ্যানিমেশন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এমন একটি বৈশ্বিক বর্ণনা তৈরি করা হচ্ছে যেন ইরান সামরিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল মূলত “ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ার” বা তথ্যযুদ্ধের অংশ। লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করা এবং প্রতিপক্ষের মনোবল দুর্বল করা। অনেক ক্ষেত্রেই এসব কনটেন্ট এতটাই বাস্তবসম্মত যে দ্রুত স্ক্রল করতে থাকা ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি।
বিশ্লেষকদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতির কারণে এই ধরনের কনটেন্ট দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিও বা গ্রাফিক্স দেখে অনেক ব্যবহারকারী বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে ইরান সংঘাতে এগিয়ে আছে বা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে বাস্তব সামরিক শক্তির হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান শক্তি, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে ইরানের অর্থনৈতিক চাপ, সীমিত সামরিক সম্পদ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি তৈরি করা সম্ভব হলেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে সেটি টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিও বা দাবিগুলো যাচাই করে দেখার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।