যুদ্ধ, হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা: ২০২৬ সংঘাত নিয়ে ইরানের যুবসমাজ কী ভাবছে
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইরানের সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে দেশের যুবসমাজের মধ্যে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ, গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে—ইরানের তরুণদের বড় অংশ যুদ্ধকে সমর্থন করছে না; বরং তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশী এবং সরকারের নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমানভাবে সমালোচনামুখর।
যুদ্ধ, হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা: ২০২৬ সংঘাত নিয়ে ইরানের যুবসমাজ কী ভাবছে
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইরানের সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে দেশের যুবসমাজের মধ্যে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ, গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে—ইরানের তরুণদের বড় অংশ যুদ্ধকে সমর্থন করছে না; বরং তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশী এবং সরকারের নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমানভাবে সমালোচনামুখর।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানে হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু শহরে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বোমা হামলা ও সামরিক অভিযানের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নাগরিকরা একদিকে বিদেশি হামলার ভয়ে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় দমননীতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত চাপ তরুণদের মানসিকতা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আনছে।
জরিপে কী বলছে ইরানের জনগণ ও তরুণরা
যুদ্ধকে “জনগণের যুদ্ধ” মনে করে না অধিকাংশ
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা GAMAAN-এর এক জরিপে দেখা যায়—
৬৩% ইরানি মনে করে এই যুদ্ধ ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েল ও ইরানের সরকারের মধ্যে সংঘাত।
মাত্র ৩৩% মানুষ এটিকে জাতীয় বা দেশপ্রেমিক যুদ্ধ হিসেবে দেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন।
সরকারের প্রতি ক্ষোভ স্পষ্ট
একই জরিপে আরও দেখা যায়—
৪৪% মানুষ মনে করে যুদ্ধের জন্য ইরানের সরকার দায়ী
মাত্র ৩৩% ইসরায়েলকে প্রধান দায়ী মনে করে
৫৮% মানুষ মনে করে সরকার জনগণকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেনি
৪২% মানুষ যুদ্ধ চলাকালে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষোভের বড় অংশই তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে, কারণ তারাই অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বিধিনিষেধের সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও দেশ ছাড়ার প্রবণতা
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
৭৭% ইরানি মনে করে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা রয়েছে
প্রায় ৭২% তরুণ বিদেশে চলে যেতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও বাড়ছে।
একাধিক জরিপে দেখা গেছে—
৮০% এর বেশি ইরানি বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়
অধিকাংশই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছে।
এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিভিন্ন শহরে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখা গেছে।
যুবসমাজের মনোভাব: তিনটি প্রধান প্রবণতা
বিশ্লেষণ অনুযায়ী ইরানের তরুণদের মনোভাবকে তিনটি ভাগে দেখা যায়—
১️ যুদ্ধবিরোধী বাস্তববাদ
অনেক তরুণ মনে করে যুদ্ধ দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
২️. সরকারের প্রতি অসন্তোষ
তাদের মতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতির ব্যর্থতার কারণে দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
৩.রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা
কিছু তরুণ মনে করছে এই সংকট ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের যুদ্ধ ইরানের যুবসমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তরুণদের বড় অংশ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন, সরকারের নীতির সমালোচক এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা করছে।