ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে চরম জনবল সংকট, হারিদি গোষ্টিকে যুদ্ধে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করছে আইডিএফ

ইরান- ইসরায়েল যুদ্ধে সংকটাপন্ন সময় পার করছে সারা বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতায় আইডিএফ এ প্রবল জনসঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে ইসরাইলী গনমাধ্যম channel 12 এর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইডিএফ এর সামরিক প্রধান লে. জেনারেল ইয়াল জামির। হারিদিদের যুদ্ধে যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে সামাজিক সমস্যা, সৃষ্টি হচ্ছে পক্ষ বিপক্ষ অভ্যন্তরিন বিক্ষোভ।

PostImage

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে চরম জনবল সংকট, হারিদি গোষ্টিকে যুদ্ধে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করছে আইডিএফ


ইরান- ইসরায়েল যুদ্ধে সংকটাপন্ন সময় পার করছে সারা বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতায় আইডিএফ এ প্রবল জনসঙ্কট তৈরি হয়েছে  বলে ইসরাইলী গনমাধ্যম channel 12 এর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইডিএফ এর সামরিক প্রধান লে. জেনারেল ইয়াল জামির। হারিদিদের যুদ্ধে যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে সামাজিক সমস্যা, সৃষ্টি হচ্ছে পক্ষ বিপক্ষ অভ্যন্তরিন বিক্ষোভ। 

বিশ্ব মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আইডিএফ এ ১২- ১৫ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। একটানা যুদ্ধ চলমান থাকায় রিজার্ভ সেনারা ক্লান্তি, বিষন্নতা এমনি PTSD (Post traumatic Stress disorder) মাত্রাতিরিক্ত বাড়ছে। বাহিনীর ভিতরে ও বাইরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।  এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাহিনীর সদস্যদের অপারেশনাল সক্ষমতা হ্রাস পাবে এমনকি আইডিএফ এর যে কাঠামো তা ভেঙ্গে পড়তে পারে অর্থ্যাৎ Collapse in on itself. এমন পরিস্থিতি বাহিনীর সদস্যদের পরিবারিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকাও বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু রিজার্ভ সেনাদের জন্য বিশেষ প্রনোদনা ও ছাড় ঘোষনা করেছেন।  সেনাদের ক্লান্তি ও চাপ কমাতে বার্ষিক ছুটি কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইহুদি তরুনদের নিয়োগ দেওয়ার  সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আইডিএফ। হারিদি গোষ্টিকেও বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য রুল জারি করা হয়েছে।

হারিদি কারা?  এরা কেন হঠাৎ আলোচনায়? 

হারিদি (Haredi) বা আল্ট্রা - অর্থোডক্স (Altra - Orthodox)  হলো ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে রক্ষনশীল ও ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠী।  তারা তোরাহ বা ইহুদী ধর্মের নিয়ম, শিক্ষা, বিশ্বাসগুলো কঠোরভাবে পালন করে  এবং তাদের পোষাক আচার-আচরণও সাধারনের থেকে আলাদা। 

কেন তারা আলোচনার কেন্দ্রে?

১৯৪৮ সাল থেকে হারিদিদের জন্য একটি বিশেষ আইন ছিল যে, ইসরায়েলের সাধারন নাগরিকদের জন্য যেখানে সামরিক বাহিনীতে সেবা দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক সেখানে যারা ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহন করবে বা হারিদি তাদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হবে না। ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সাধারন ইসরায়েলীদের আন্দোলনে সে আইন ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সে আইন বাতিল করে হারিদিদেরও সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতার আইন পাশ করা হয়। ইরান ইসরায়েল যুদ্ধে যে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে তা নিরশনে হারিদিদের যুদ্ধে যোগদানের বিষয়টি উঠে এসেছে।  কারন এক জরিপে দেখা গেছে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ১৩-১৪% হারিদি যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৫০ তা ২৫% হয়ে যাবে। 

এমন পরিস্থিতিতে হারিদি নির্ভর রক্ষনশীল দলগুলো মনে করে সেনাবাহিনীতে গেলে তাদের তরুনরা আধুনিক শিক্ষায় অসাম্প্রদায়িক হয়ে যাবে ও ধর্মীয় স্বকীয়তা হারাবে। তাই অনেক দল এ নিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। বর্তমানে এ বিতর্কটি মূলত "ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম নাগরিক দায়িত্ব" এ দুয়ের মধ্যে ইসরায়েল সমাজ ব্যবস্থাকে বিভক্ত করে ফেলেছে।

আইডিএফ এর এ জনসংকট ইসরায়েলকে যেমন সামরিকভাবে ভঙ্গুর করবে তেমনি সামাজিকভাবেও বিভক্তি তৈরি করবে। যুদ্ধের সময়কাল কম হলে এবং ইজরায়লি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ফলপ্রসু হলেই এ সঙ্কট নিরশন সম্ভব। তবে বাস্তবতা এই যে নেতানিয়াহু সরকার হারিদিদের সমর্থনে অনেকটা নির্ভরশীল তাই তাদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বাধ্য করলে নেতানিয়াহু অনেক রক্ষনশীল গোষ্ঠীর সমর্থন হারাবে। তাই যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদী হলে ইসরায়েল সামরিক ও সামাজিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার আশংকাই বেশি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর