ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন উত্তেজনা: শর্ত মানার দাবি ইউরোপীয় কমিশনের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী সংস্থা European Commission যুক্তরাষ্ট্রকে গত বছরের ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। রোববার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং “একটি চুক্তি মানেই চুক্তি” — তা সম্মান করতেই হবে।
পটভূমি
শুক্রবার U.S. Supreme Court সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে রায় দেয়। এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন অস্থায়ীভাবে সব পণ্যের ওপর ১০% হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা একদিনের মধ্যে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়।
ইউরোপীয় কমিশন জানায়, এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে “পূর্ণ স্বচ্ছতা” প্রয়োজন। কমিশনের ভাষায়, বর্তমান অবস্থা “ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক” বাণিজ্য নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করছে না।
গত বছরের চুক্তির মূল শর্ত
গত বছরের ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী:
-
অধিকাংশ ইইউ পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার নির্ধারিত ছিল ১৫%।
-
ইস্পাতসহ কিছু খাতে আলাদা সেক্টরভিত্তিক শুল্ক বহাল ছিল।
-
উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের মতো কিছু পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়।
-
ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের বহু পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমাতে সম্মত হয় এবং পাল্টা উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করে।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, “ইইউ পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বাইরে কোনো শুল্ক বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়।” অনির্দেশ্য ও ঘন ঘন পরিবর্তিত শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাজারে আস্থা নষ্ট করে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও সতর্ক করেছে ব্রাসেলস।
কূটনৈতিক যোগাযোগ
ইইউ বাণিজ্য কমিশনার Maros Sefcovic শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি Jamieson Greer এবং বাণিজ্যমন্ত্রী Howard Lutnick-এর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদি দুই পক্ষ দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তবে তা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাজার স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল, তবে স্পষ্ট—ইইউ চুক্তির শর্ত অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।