ওয়াশিংটন — ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানির ওপর শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আরোপ করা বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয়, আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁর ক্ষমতা সীমিত হলেও তিনি এখনো শুল্ককে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ম পুনর্লিখন এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অসাংবিধানিক। আদালত ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয় যে, শুল্ক নির্ধারণ এবং পরিবর্তনের ক্ষমতা এককভাবে প্রেসিডেন্টের নয়, বরং এটি কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় পড়ে।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখন ভিন্ন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সীমিত ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি ইতোমধ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যাবে, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। তবে এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যদি না কংগ্রেস তা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি যে কবে নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের আদেশে স্বাক্ষর করা হবে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে আদালতের রায়কে “হাস্যকর, দুর্বলভাবে লেখা এবং অত্যন্ত আমেরিকা-বিরোধী সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যায়িত করেন।
এই রায়ের পর ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আদালতের বিচারকদেরও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে তিনি তাঁর মনোনীত বিচারপতি নিল গরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেট-এর সমালোচনা করেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছিলেন।
অন্যদিকে, ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ-কে তিনি “নতুন নায়ক” বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো-এর প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে শুল্ককে তাঁর অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য দেশকে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব হবে। যদিও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব শুল্কের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপরই পড়ে।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। তবে আদালতের রায়ে ইতোমধ্যে সংগৃহীত অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটি-এর ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প “আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে অর্থ নিচ্ছেন।”
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলেন, “তিনি জনগণের স্বার্থের কথা ভাবছেন না।”
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ তদন্ত শেষে নতুন এবং আইনসম্মত শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করবে, যা তাঁর ভাষায় “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।