Epstein কেলেঙ্কারি: নাম কাটা, প্রশ্ন বাড়ে, রাজনীতি উত্তপ্ত

ওয়াশিংটনে আবারও তোলপাড়। কুখ্যাত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথি প্রকাশের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— কে রক্ষা পাচ্ছে, আর কাদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হচ্ছে? DOJ ও ট্রাম্পকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ঝড়।

PostImage

Epstein কেলেঙ্কারি: নাম কাটা, প্রশ্ন বাড়ে, রাজনীতি উত্তপ্ত


Epstein Files কেলেঙ্কারি ঘনীভূত: DOJ–এর গোপন সম্পাদনা নিয়ে প্রশ্ন, ট্রাম্পকে ম্যাক্সওয়েলের বিস্ফোরক প্রস্তাব

কুখ্যাত ধনকুবের ও যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস সদস্যরা অভিযোগ করছেন—Justice Department (DOJ) গুরুত্বপূর্ণ নথিতে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের নাম গোপন করে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ, যিনি আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন, গত মাসে বলেছিলেন DOJ কাউকে রক্ষা করছে না—“ট্রাম্পকেও নয়।” কিন্তু Epstein Files নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বক্তব্যকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কংগ্রেস সদস্যদের সম্প্রতি কালো করে দেওয়া (redacted) নথির আসল সংস্করণ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তারা বিস্ময়কর তথ্য দেখতে পান।

মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট এমপি জেমি রাস্কিন বলেন,

“আমরা কোনো ধামাচাপা চাইনি। কিন্তু আজ যা দেখলাম তাতে অনেক মানুষের নাম কাটা হয়েছে যারা ভুক্তভোগীই নয়।”

ওয়াশিংটনে DOJ সদর দপ্তরে নথি পর্যালোচনার দিনেই কেলেঙ্কারির প্রভাব ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে—যেখানে বহু রাজনীতিবিদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, ন্যায়বিচার আবারও বিলম্বিত হচ্ছে।


সন্দেহজনকভাবে লুকানো নাম

ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান জেমস ওয়াকিনশ বলেন,

“আমি অনেক নাম দেখেছি—ইমেইলসহ—যা ইঙ্গিত দেয় তারা অপরাধ জানত বা এতে জড়িত ছিল।”

কংগ্রেসম্যান জ্যারেড মস্কোভিটজ বলেন,

“এখানে অসংখ্য নাম, সহ-ষড়যন্ত্রকারী এবং বিশ্বজুড়ে মেয়েদের পাচারের প্রমাণ রয়েছে।”

আইন অনুযায়ী DOJ কেবল ভুক্তভোগীদের পরিচয় বা চলমান তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন তথ্যই গোপন রাখতে পারে। অথচ তারা এখনো কংগ্রেসকে ব্যাখ্যামূলক লিস্ট দেয়নি কেন কোন নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

এর ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সামনে হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানি আরও উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। অনেক ডেমোক্র্যাট মনে করছেন, Epstein Files Transparency Act আইন মানা হচ্ছে না।


ম্যাক্সওয়েলের চমকপ্রদ ডিল প্রস্তাব

এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল টেক্সাসের কারাগার থেকে ভিডিও কলে কংগ্রেস কমিটির সামনে হাজির হন। তিনি আত্মঅভিযোগ এড়াতে Fifth Amendment প্রয়োগ করেন।

কিন্তু তার আইনজীবী ডেভিড অস্কার মার্কাস বিস্ফোরক প্রস্তাব দেন—

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ম্যাক্সওয়েলকে ক্ষমা করেন, তিনি পুরো সত্য প্রকাশ করতে প্রস্তুত।”

তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের অপরাধে নির্দোষ।

যদিও কারও বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই, এই প্রস্তাব কার্যত সাক্ষ্যের বিনিময়ে মুক্তির একটি রাজনৈতিক লেনদেন।

ম্যাক্সওয়েল মুক্তি পেলে তার বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য হবে কিনা—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। তবে ট্রাম্পের অতীত ক্ষমা ব্যবহারের ইতিহাসের কারণে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি এখন আর শুধু অতীত নয়—এটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি এবং ক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর