ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার বিকল্প বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্দেশ্য—সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করা এবং দমন করা গণআন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করা—রয়টার্সকে জানিয়েছেন একাধিক মার্কিন, আরব ও পশ্চিমা সূত্র।

PostImage

ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প


পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস করা নয়। তারা এ পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে মার্কিন চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট বদল হলেও সরকার কাঠামো টিকে ছিল।

এই সপ্তাহে মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, খামেনির পতন হলে ইরানে অনুরূপ একটি পরিবর্তনের আশা করছে ওয়াশিংটন, যদিও তিনি স্বীকার করেন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, খামেনির পরে কে ক্ষমতায় আসবে তা স্পষ্ট নয়।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তথাকথিত ‘রাষ্ট্রদ্রোহীদের’ দায়ী করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানায়, সহিংসতায় ৫,৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭। রয়টার্স এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

খামেনি ক্ষমতায় থাকলেও আড়ালে

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলি হামলায় শীর্ষ সামরিক নেতারা নিহত হওয়ার পর খামেনি প্রকাশ্যে উপস্থিতি কমিয়েছেন এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
দৈনন্দিন শাসন কার্যক্রম এখন মূলত আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হাতে, তবে যুদ্ধ, উত্তরাধিকার ও পারমাণবিক নীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও খামেনির।

আঞ্চলিক উদ্বেগ

আরব দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরান অস্থিতিশীল হলে তা গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সংকট, জঙ্গিবাদ এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করতে পারে।

সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিসর ওয়াশিংটনকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এক আরব কর্মকর্তা বলেন,
“আমেরিকা বোতাম চাপতে পারে, কিন্তু পরিণতি আমাদেরই বহন করতে হবে।”

আকাশ হামলার সীমাবদ্ধতা

এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র হলো ধীরে ধীরে ক্ষমতার ক্ষয়—অর্থনৈতিক অচলাবস্থা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অনিশ্চিত উত্তরাধিকার।

ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যৎ হামলা আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইরান জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও আক্রমণ হলে কঠোর জবাব দেবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর