৩২ লাখ মামলার জটের মাঝেই অভিবাসন আদালতে বড় পরিবর্ত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে বিচার বিভাগ ৩৩ জন নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে, যখন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই মামলার বিশাল জটে ভুগছে।

PostImage

৩২ লাখ মামলার জটের মাঝেই অভিবাসন আদালতে বড় পরিবর্ত


ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নতুন ‘ডিপোর্টেশন জজ’ নিয়োগ

ওয়াশিংটন, ৬ ফেব্রুয়ারি — মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৩৩ জন নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জন অস্থায়ী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ (EOIR) জানায়, বৃহস্পতিবার নতুন বিচারকদের শপথ করানো হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসে আরও ৩৬ জন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, দীর্ঘ সময় ধরে বিচারক ছাঁটাইয়ের পর।

নতুন বিচারকরা অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটনসহ ১৫টি অঙ্গরাজ্যে দায়িত্ব পালন করবেন।

১০০-এর বেশি বিচারক বরখাস্ত

আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (AILA)-এর তথ্যমতে, ট্রাম্প জানুয়ারি ২০২৫-এ ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ৭০০ জনের মধ্যে ১০০-এর বেশি অভিবাসন বিচারককে বরখাস্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে

সংস্থাটি জানায়, ব্যাপক গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার কার্যক্রমের সময় এই সিদ্ধান্ত আদালতের সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে

তবে বিচার বিভাগ দাবি করেছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদালতের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল।

সামরিক পটভূমির বিচারক

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের মধ্যে:

  • স্থায়ী বিচারকদের অর্ধেকেরই সামরিক পটভূমি রয়েছে

  • সব অস্থায়ী বিচারকই সামরিক আইনজীবী

সেপ্টেম্বরে পেন্টাগন জানিয়েছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সামরিক ও বেসামরিক আইনজীবীরা ছয় মাস পর্যন্ত অস্থায়ী অভিবাসন বিচারক হিসেবে কাজ করবেন

সমালোচকদের মতে, এতে বেসামরিক অভিবাসন আইন ও সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে

৩২ লাখ মামলার জট

নন-প্রফিট সংস্থা মোবাইল পাথওয়েজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আদালতগুলোতে প্রায় ৩২ লাখ মামলা ঝুলে রয়েছে

আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক ছাঁটাই, বাধ্যতামূলক আটক ও দ্রুত বহিষ্কার নীতির কারণে এই জট আরও বেড়েছে।

বোর্ড অব ইমিগ্রেশন অ্যাপিলসের একটি রায়ের ফলে, আগে যেসব অভিবাসী জামিনে মুক্তি পেতেন, এখন তাদের অনেককেই বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা হচ্ছে—যা নিয়ে ফেডারেল আদালতগুলো আপত্তি তুলেছে।

দ্রুত আপিল বিধি

ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার একটি ফাস্ট-ট্র্যাক নিয়ম প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যার ফলে:

  • আপিলের সময়সীমা কমে ১০ দিনে নামবে

  • আপিল বোর্ড সহজেই মামলা খারিজ করতে পারবে

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এতে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে দুর্বল হতে পারে