মিনেসোটায় আইস কর্মকর্তাদের ‘উসকানিদাতাদের’ সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ, টার্গেটেড গ্রেপ্তারে জোর

মিনেসোটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করতে এবং শুধুমাত্র অপরাধমূলক ইতিহাস থাকা অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

PostImage

মিনেসোটায় আইস কর্মকর্তাদের ‘উসকানিদাতাদের’ সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ, টার্গেটেড গ্রেপ্তারে জোর


মিনেসোটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের ‘উসকানিদাতা’ বা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করতে এবং শুধুমাত্র অপরাধমূলক যোগসূত্র থাকা অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—রয়টার্স পর্যালোচিত অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় এমনটাই বলা হয়েছে।

আইসির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্কোস চার্লস পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, সব লক্ষ্যবস্তু অভিবাসীর অবশ্যই “ক্রিমিনাল নেক্সাস” থাকতে হবে, যার মধ্যে পূর্বের গ্রেপ্তার বা দণ্ডাদেশ অন্তর্ভুক্ত।

নতুন নির্দেশনার আওতায় আইসি কর্মকর্তারা লাইসেন্স প্লেট চেক করতে পারবেন এবং যদি গাড়ির নিবন্ধিত মালিক অপরাধমূলক ইতিহাসসম্পন্ন অভিবাসী হন, তাহলে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। তবে মিনেসোটায় এখন বর্ডার প্যাট্রোল কেবল সহায়ক ভূমিকায় থাকবে, যা আগের কৌশলের সম্পূর্ণ বিপরীত।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের মেগাফোন ব্যবহার করে জনসাধারণকে নির্দেশ দিতে হবে এবং গ্রেপ্তারের প্রতিটি ধাপ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“উসকানিদাতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা বিতর্কে জড়ানো যাবে না।”

ইমেইলে বলা হয়,
“উসকানিদাতাদের সঙ্গে কথা বলা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে। কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। কর্মকর্তারা শুধু নির্দেশ দেবেন—এইটুকুই যোগাযোগ।”

এই কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে মিনিয়াপোলিসে চলতি মাসে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের সময় দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর। ওই ঘটনাগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন নিহতদের প্রথমে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরলেও ভিডিও ফুটেজ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলে উত্তেজনা “কমিয়ে আনতে” চান। এ লক্ষ্যে তিনি সীমান্ত বিষয়ক দায়িত্ব টম হোমানের হাতে তুলে দিয়েছেন, যা প্রশাসনের ভাষায় আরও “টার্গেটেড” অভিযানের ইঙ্গিত।

এদিকে, আগ্রাসী অভিযানের জন্য পরিচিত বর্ডার প্যাট্রোল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি শিগগিরই অবসর নিতে পারেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মিনেসোটার রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইসির সহযোগিতা বেড়েছে, ফলে প্যারোল বা প্রবেশনে মুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের সুযোগও বাড়তে পারে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই নির্দেশনা এখনও চূড়ান্ত নয়।
এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন,
“মিনেসোটায় অভিযান কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দেশনাকেই চূড়ান্ত ধরা উচিত নয়।”