ঘুষ, দালাল ও অঘোষিত সম্পদ: বিআরটিএ লাইসেন্স বিভাগে কী চলছে? | পর্ব–১

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেই যদি গড়ে ওঠে ঘুষের সাম্রাজ্য—তবে প্রশ্ন ওঠে, সেই শক্তির উৎস কোথায়? বিআরটিএ লাইসেন্স বিভাগে আলোচিত এডি জিয়াউর রহমানকে ঘিরে উঠেছে ভয়ংকর সব অভিযোগ। অনুসন্ধানে নেমেছে CSB News USA। এই পর্বে উঠে আসছে অভিযোগের প্রাথমিক চিত্র।

PostImage

ঘুষ, দালাল ও অঘোষিত সম্পদ: বিআরটিএ লাইসেন্স বিভাগে কী চলছে? | পর্ব–১


নূরে আলম জীবন | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এক প্রভাবশালী আমলা—জিয়াউর রহমান। সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিকানা, রহস্যময় জীবনযাপন এবং বিআরটিএর লাইসেন্স বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

জিয়াউর রহমান বর্তমানে বিআরটিএ’র লাইসেন্স শাখায় সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোর নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ আদায় করে আসছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন জিয়াউর রহমান নিজেই। এই চক্রে দালাল হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সোহেল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি।

লাইসেন্স বোর্ডে কথিত ঘুষ বাণিজ্য

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি লাইসেন্স বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়। একটি বোর্ডে গড়ে প্রায় ১,০০০ পরীক্ষার্থী থাকায়, প্রতিটি বোর্ড থেকেই ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। এই অর্থ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়, যা বছরের পর বছর ধরে চলমান।

সম্পদের পাহাড়, আয়ের উৎস রহস্যে

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও জিয়াউর রহমানের নামে ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর অভিজাত ও সুরক্ষিত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক ব্যয়বহুল বাড়ি ও প্লট রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী: বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ব্লক-এফ, রোড-৯, বাড়ি নং ৪১৩।  বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ব্লক-জে, রোড-১৩

এছাড়াও তার ব্যবহৃত গাড়ির মধ্যে রয়েছে একটি টয়োটা প্রিয়াস (ঢাকা মেট্রো-গ ১৬-১৪১৭)—যার মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অফিসে অনুপস্থিতি ও রহস্যজনক নীরবতা

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সিএসবি নিউজ টিম গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা সোমবার, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিকবার তার দপ্তরে উপস্থিত হলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউই সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। বরং প্রশ্ন করতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্পষ্ট ভীতির বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

প্রতিক্রিয়া মেলেনি

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সামনে আরও বিস্ফোরক তথ্য

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কথিত ভিডিও প্রমাণ, বদলি ঠেকাতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে

চোখ রাখুন—সিএসবি নিউজ ইউএসএ।