মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজের সময় বেকন দেখিয়ে উসকানি: যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, হেট ক্রাইম এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আরও তথ্য প্রকাশ করবে কর্তৃপক্ষ।
মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজের সময় বেকন দেখিয়ে উসকানি: যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (USF)-তে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজের সময় বেকন দেখিয়ে অপমান ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন পুরুষের বিরুদ্ধে ফেলনি (গুরুতর অপরাধ) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এই খবরটি ঘোষণা করেছেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ডেরিক ইভান্স, যিনি টুইটারে লিখেছেন:
“মুসলিমদের নামাজের সময় বেকন দেখিয়ে উসকানি দেওয়ার জন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেলনি চার্জ আনা হয়েছে। কেন মুসলিমদের আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? আমরা তো এখনো বাকস্বাধীনতার দেশে আছি। আমেরিকা একটি খ্রিস্টান জাতি।”
ঘটনার পটভূমি
প্রতীকীভাবে শূকরের মাংস (বেকন) দেখানো মুসলিম ধর্মীয় চর্চাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইউনিভার্সিটির মুসলিম শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবেই জুমার নামাজসহ বিভিন্ন সময় নামাজ আদায় করেন। ওই সময়ই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাদের সামনে বেকন নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করে।
কেন ফেলনি চার্জ?
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হেট ক্রাইম আইন অনুযায়ী,
-
ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সময়
-
ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অপমান, হুমকি বা উসকানি দেওয়া
-
বা তার উপাসনা বাধাগ্রস্ত করা
এগুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফ্লোরিডায় এই ধরনের আচরণ ধর্মীয় হেট ক্রাইম হিসেবে গণ্য হতে পারে—যা ফেলনি চার্জ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান
USF কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
-
ক্যাম্পাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা সব শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার
-
কোনও ধরনের ঘৃণা বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না
-
পুলিশ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা চলছে
বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া
ডেরিক ইভান্সসহ বেশ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এই ঘটনার আইনি পদক্ষেপকে “অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া” বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, এটি বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে,
“বাকস্বাধীনতা মানেই কারও ধর্মীয় উপাসনা ব্যাহত করার অধিকার নয়। এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় ঘৃণা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”