আমি কাউকে পাত্তা দিই না” — রয়টার্স সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা

রয়টার্স বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৩০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার নেয়। সেই সাক্ষাৎকারের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

PostImage

আমি কাউকে পাত্তা দিই না” — রয়টার্স সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা


নিজের পথেই চলছেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড, ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত এবং অর্থনীতির অবস্থা—এসব বিষয়ে জনমত, ব্যবসায়ী মহল এমনকি নিজ দলের রিপাবলিকানদের উদ্বেগ ট্রাম্প বারবার উড়িয়ে দেন।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে আমেরিকানদের সমর্থন কম—রয়টার্স/ইপসোসের এমন একটি জরিপকে ট্রাম্প “ভুয়া” বলে আখ্যা দেন। পাওয়েলের তদন্ত নিয়ে কিছু রিপাবলিকান সিনেটরের আপত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি পাত্তা দিই না।” জেপি মরগ্যান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমনের ফেডে হোয়াইট হাউসের হস্তক্ষেপ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—এমন মন্তব্যের জবাবেও ট্রাম্প একই কথা বলেন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের প্রশ্নে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ইতিহাসের “সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায়” রয়েছে। তিনি বলেন, নিজের অর্জনগুলো আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে। এ সময় তিনি তার সাফল্যের তালিকা সম্বলিত একটি মোটা ফাইলের কথাও উল্লেখ করেন।

“অনেক সময় ভোটারকে বোঝানো যায় না,” বলেন ট্রাম্প। “আপনাকে যা সঠিক মনে হয়, সেটাই করতে হয়।”

ইরান নিয়ে অনিশ্চয়তা

সাক্ষাৎকারের আগের দিন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন কমছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, তবে এর উৎস জানাননি। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেননি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কথা এখনও বিবেচনা করছে কি না।

ইরান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও তিনি দেশটির শাসকদের অপসারণের আহ্বান জানাননি। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে সমর্থন দিতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান।

শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ নয়

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নিজের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তবে দুই ক্ষেত্রেই জটিলতা রয়ে গেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেনি বলে ট্রাম্প স্বীকার করেন। “তারা হাতে বন্দুক নিয়েই জন্মেছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত। তবে অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেন, যিনি বলেছেন—যেকোনো মূল্যে শান্তি গ্রহণ করবে না ইউক্রেন।

আইসিই বাহিনীর পক্ষে অবস্থান

মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুকে ট্রাম্প “দুঃখজনক ঘটনা” বলে মন্তব্য করেন। তবে তার স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম তাকে “ঘরোয়া সন্ত্রাসী” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবুও ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, তিনি মার্কিন শহরগুলোতে সশস্ত্র ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল। তার দাবি, এসব অভিযানে “হাজার হাজার খুনি” দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিন্তা

চলতি বছরের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প।

“এটা এক ধরনের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার,” বলেন তিনি। “আপনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিতলেও মিডটার্মে জেতা যায় না।” তবে তিনি দাবি করেন, তার অর্জন এতটাই বড় যে এবার সেই ধারার ব্যতিক্রম হওয়া উচিত।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর