যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান: যুদ্ধের হুমকি দিলেও আলোচনায় বাধ্য তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মুখে চরম অস্থিরতায় পড়েছে ইরান। একদিকে তেহরান যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করছে—যা ইরানি সরকারের ভেতরের দুর্বলতা ও গভীর রাজনৈতিক সংকটকে স্পষ্ট করে তুলছে। একই সময়ে, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যেখানে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান: যুদ্ধের হুমকি দিলেও আলোচনায় বাধ্য তেহরান


যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান একদিকে “যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত” থাকার হুমকি দিলেও, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে—যা তেহরানের দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ সংকটেরই প্রতিফলন।

ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী গণআন্দোলন এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং এটিকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংকট: শত শত নিহত, হাজার হাজার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে এ পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০,৭০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আড়াল করতে ইরানি সরকার টানা চার দিন ধরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে—যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে যে ইরানি সরকার জনগণের ক্ষোভ ও বাস্তব পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে লুকাতে মরিয়া।

ইরানের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে

ইরানের দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে, ইরান সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যে একটি ট্রাক ঢুকে পড়ার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
লন্ডনে, ইরানি দূতাবাসের পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনার পর তেহরান ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করলেও, পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে ইরানি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে।

খামেনির হুমকি ও বাস্তবতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করে বক্তব্য দিলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এসব বক্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা। রাষ্ট্রায়ত্ত আইআরআইবি-তে প্রচারিত বিবৃতিতে তিনি মার্কিন রাজনীতিকদের সমালোচনা করলেও, বাস্তবে ইরান ক্রমশ আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ছে।

খামেনি সরকারপন্থী সমাবেশের প্রশংসা করলেও, পর্যবেক্ষকদের মতে এসব সমাবেশ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত এবং গণবিক্ষোভের প্রকৃত চিত্রকে ঢেকে রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তেহরানের রাস্তায় গণবিদ্রোহ

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের পুনাক, একবাতান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিয়াহকাল শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

বিক্ষোভকারীরা যে স্লোগানগুলো দিচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—

  • “স্বাধীনতা, স্বাধীনতা, স্বাধীনতা”

  • “শাহ দীর্ঘজীবী হোন”

  • “ইরান বন্ধ — লড়াই করো, ইরান ফিরিয়ে দাও”

রাস্তায় আগুন, ধোঁয়া ও সারিবদ্ধ মিছিল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানি জনগণ আর দমনমূলক শাসন মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

মার্কিন অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই ইরানি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে—তেহরান যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে চায়, তবে তাকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপ ও আন্তর্জাতিক ঐক্যই ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর