“জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার”: যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি বাড়াচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে আবারও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষের প্রভাব সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য, এবং এখানে আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।”
“জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার”: যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি বাড়াচ্ছে
ওয়াশিংটন, ৭ জানুয়ারি (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে তুলে ধরেছে। আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিপক্ষগুলির ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা, ভূ‑রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশীয় নিরাপত্তার উপরে এর প্রভাবকে সামনে রেখে মার্কিন নেতৃত্বের এই মনোভাব গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এটি আর্কটিকে নজরদারি ও সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড অর্জন বা সেখানে আমাদের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানো একটি জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার। আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আমরা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছি এবং প্রয়োজনে সামরিক সহায়তাও একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে।”
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের অধীনে স্ব‑শাসিত এলাকা, প্রায় ৮৩৬,০০০ বর্গমাইল বিস্তৃত এবং এতে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজসহ ব্যাপক অপ্রচলিত সম্পদ রয়েছে। তবে শীতল জলবায়ু ও সীমিত অবকাঠামোর কারণে এসব সম্পদ উত্তোলন কঠিন হলেও এর সম্ভাব্য মূল্য অত্যন্ত উচ্চ। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানিক অবস্থানযুক্ত এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রকে আর্কটিক শিপিং রুট, প্রতিপক্ষের সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত উৎকর্ষতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে যে তারা গ্রিনল্যান্ডে আগ্রহী হওয়ার মূল কারণ হল জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ, শুধুমাত্র ভূসম্পদ নয়। ট্রাম্পের কথায়, “আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা — বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন — আর্কটিকে আরও সক্রিয়ভাবে লক্ষ্য করছে। সে ক্ষেত্রে আমেরিকার অবস্থান শক্তিশালী করা অপরিহার্য।”
ডেনমার্কের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ককে একটি দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র হিসেবে সম্মান করে এবং প্রাধান্য দেয়ার প্রতিশ্রুতিও রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষায়, ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের স্বার্থকে সম্মান করা হবে, তবে আর্কটিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ বারবার জোর দিয়েছে যে ডিপ্লোম্যাটিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বই অগ্রাধিকার, এবং সামরিক উপস্থিতি একটি বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় নেতারা, বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক, একযোগে আর্থিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে আর্কটিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি স্থানীয় জনগণের হাতে থাকা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ডে renewed focus হচ্ছে একটি বড় কৌশলগত নীতি — আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলা করা। ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো অধিকার করার পর বিদেশনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং কৌশলগত দিক দিয়ে প্রবৃত্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ড শুধু একটি দ্বীপ নয়; এটি আর্কটিকে নিরাপদ করার জন্য আমেরিকার নিরাপত্তার একটি মূল চাবিকাঠি। আমরা এটি রক্ষা করব এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমেরিকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।”