ভেনিজুয়েলায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়: মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেন, রদ্রিগেজ আহ্বান জানালেন সংলাপের জন্য

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মাচাদো এটিকে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, একই সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সংলাপ ও সম্মানজনক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

PostImage

ভেনিজুয়েলায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়: মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেন, রদ্রিগেজ আহ্বান জানালেন সংলাপের জন্য


কারাকাস/ওয়াশিংটন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো সোমবার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি।

ফক্স নিউজের জনপ্রিয় ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন,
"আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছি ১০ অক্টোবর, যেদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকে আর কথা হয়নি।"

মাচাদো, যিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত, গত মাসে নরওয়ে সফরে যান নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য। বর্তমানে তিনি ভেনিজুয়েলায় ফেরেননি এবং সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “আমি যত দ্রুত সম্ভব আমার দেশে ফিরে যেতে চাই।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাগত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করার পর এই সাক্ষাৎকারটি মাচাদোর প্রথম গণমাধ্যমে উপস্থিতি। তিনি বলেন,
"এটি মানবতা, স্বাধীনতা এবং মানব মর্যাদার জন্য একটি বিশাল পদক্ষেপ।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাচাদোর আন্তর্জাতিক অবস্থান, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

ডেলসি রদ্রিগেজের আহ্বান: সংলাপ ও সহযোগিতা

এদিকে, সোমবার ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রদ্রিগেজ সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ভেনিজুয়েলা “বহিরাগত হুমকি ছাড়া শান্তিতে বাঁচতে চায়” এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে চান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

"ভেনিজুয়েলা বিশ্বের এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বার্তা দিচ্ছে। আমাদের দেশ শান্তি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থাপনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। ভেনিজুয়েলা বহিরাগত হুমকি ছাড়া, সম্মান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশে বাঁচতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় প্রতিটি দেশের মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে।"

তিনি আরও যোগ করেন:
"আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকে যৌথ উন্নয়ন ও সহযোগিতার একটি কার্যসূচি নিয়ে কাজ করতে, যা স্থায়ী সামাজিক সহাবস্থাপনা জোরদার করবে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমাদের জনগণ ও আমাদের অঞ্চল শান্তি ও সংলাপের যোগ্য, যুদ্ধের নয়।"

এই আহ্বান দেখাচ্ছে যে, মাদুরোর সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও সংলাপ ও কূটনীতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মাচাদোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রাপ্তি, ডেলসি রদ্রিগেজের সংলাপমূলক আহ্বান, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভেনিজুয়েলার শান্তিপূর্ণ ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্মানজনক সহযোগিতা ও সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে।