নতুন বছরের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট রাজনীতির মুখ হিসেবে পরিচিত জোহরান মামদানির শপথের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে শুরু হলো এক নতুন যুগ।
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি
নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। ঐতিহাসিক ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী রামা দুওয়াজি। শপথ বাক্য পাঠ করান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।
শপথ গ্রহণকালে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইন সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র।
নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ১ জানুয়ারি থেকে মেয়রের চার বছরের মেয়াদ শুরু হয়। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে মধ্যরাতের পরপরই সংক্ষিপ্ত শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের রীতি রয়েছে। মামদানি এই ঐতিহ্যবাহী কিন্তু পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটি বেছে নেন, যা তাঁর ভাষায়—“প্রতিদিন শহর সচল রাখা শ্রমজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।”
নিজের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে মামদানি ভাড়া স্থগিত, বিনা মূল্যে বাস সার্ভিস ও শিশু যত্নসেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে কেন্দ্র করেই তিনি নির্বাচনী প্রচার গড়ে তোলেন, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন পথ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রেকর্ড ২০ লাখের বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করা নির্বাচনে মামদানি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমোর চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন তিনি। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া ছিলেন অনেক পিছিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের মাধ্যমে শপথ নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মামদানির স্বাধীন অবস্থানকেই স্পষ্ট করে। সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রান্ট রিহার বলেন, “এটি তাঁর সমর্থকদের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।”
মামদানির প্রকাশ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ। ‘Inauguration of a New Era’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সিটি হল প্লাজায় চার হাজার অতিথির পাশাপাশি অনলাইনে হাজারো মানুষ যুক্ত হবেন।
অভিষেক ও ক্ষমতা হস্তান্তর উপলক্ষে মামদানি প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন, যা এই শতাব্দীতে নিউইয়র্কের যেকোনো মেয়রের মধ্যে সর্বোচ্চ।