ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ: দক্ষিণ সুদানি অভিবাসীদের টিপিএস বাতিল আটকে দিল মার্কিন আদালত

“এই নীতি কার্যকর হতে দিলে দক্ষিণ সুদানি নাগরিকদের ওপর তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এতে তারা বৈধ অবস্থান হারাবে এবং দ্রুতই তাদের বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে।”

PostImage

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ: দক্ষিণ সুদানি অভিবাসীদের টিপিএস বাতিল আটকে দিল মার্কিন আদালত


ওয়াশিংটন/বস্টন | যুক্তরাষ্ট্র: দক্ষিণ সুদান থেকে আসা শতাধিক অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (Temporary Protected Status–TPS) বাতিলের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) বোস্টনের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতের বিচারক অ্যাঞ্জেল কেলি দক্ষিণ সুদানের কয়েকজন নাগরিক ও একটি অভিবাসী অধিকার সংগঠনের জরুরি আবেদনের পর এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, ৫ জানুয়ারির পর দক্ষিণ সুদানি নাগরিকদের টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

মামলার পটভূমি

চারজন দক্ষিণ সুদানি অভিবাসী এবং অলাভজনক সংগঠন African Communities Together যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দক্ষিণ সুদানের ভয়াবহ মানবিক সংকট উপেক্ষা করে টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাদের জোরপূর্বক একটি সংঘাতপীড়িত দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিচারক কেলি—যিনি ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত—একটি Administrative Stay জারি করেন। এতে আদালত মামলার মূল বিষয়গুলো বিচার করার আগ পর্যন্ত টিপিএস বাতিল কার্যকর হবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদেশে বিচারক কেলি বলেন,

“এই নীতি কার্যকর হতে দিলে দক্ষিণ সুদানি নাগরিকদের ওপর তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এতে তারা বৈধ অবস্থান হারাবে এবং দ্রুতই তাদের বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, আদালতের পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

সরকারের অবস্থান

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে বিভাগটির এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন,

  • দক্ষিণ সুদানে “নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”

  • দেশটি ফেরত নাগরিকদের নিরাপদ পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হয়েছে

এই যুক্তিতেই টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।

বাস্তবতা ভিন্ন, বলছে মানবাধিকার সংগঠন

মামলায় বলা হয়েছে, বাস্তবে দক্ষিণ সুদান এখনো গভীর সংকটে রয়েছে।
২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই দেশটি সংঘাতের কবলে।
২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ মানুষ নিহত হয়।
যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও দেশটির বহু অঞ্চলে এখনো সহিংসতা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

টিপিএস কী এবং কারা উপকৃত?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০১১ সাল থেকেই দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের জন্য টিপিএস চালু করে।
এই মর্যাদার আওতায়—

  • কাজের অনুমতি

  • সাময়িকভাবে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা

বর্তমানে প্রায় ২৩২ জন দক্ষিণ সুদানি নাগরিক টিপিএস সুবিধা পাচ্ছেন এবং আরও ৭৩ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন

বিতর্ক ও সাংবিধানিক অভিযোগ

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়,

  • টিপিএস আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে

  • দক্ষিণ সুদানের মানবিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে

  • সিদ্ধান্তটি বর্ণবাদপ্রসূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম গত ৫ নভেম্বর দক্ষিণ সুদানের জন্য টিপিএস বাতিলের নোটিশ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, হাইতি, কিউবা ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের টিপিএসও বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে একাধিক আদালতে মামলা চলছে।

সামনে কী?

আদালতের এই আদেশ সাময়িক হলেও, এটি দক্ষিণ সুদানি অভিবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার পূর্ণ শুনানি ও চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত টিপিএস বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর