সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক রহমান
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা এবং নাগরিক নিরাপত্তাহীনতার চরম বাস্তবতায় দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক রহমান
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এক অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর পার হলেও দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। বরং রাজধানীসহ সারাদেশে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন, সন্ত্রাসী হামলা ও অরাজকতা নাগরিক জীবনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতদিন দেশে ফিরতে পারেননি মূলত গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে। রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, টার্গেট কিলিং এবং ধারাবাহিক সহিংসতা তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিন অনিশ্চিত করে রেখেছিল।
কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় গত কয়েকদিন আগে, যখন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদীকে প্রকাশ্যে দিবালোকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
ঠিক সেই দিনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন—তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। ঘোষণাটি মুহূর্তেই সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়। এতদিনের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতার মাঝেও তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে জনগণ একদিকে বিস্মিত, অন্যদিকে আশ্বস্ত হয়। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
দেশে যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা যখন চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল এবং সর্বত্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল—সেই মুহূর্তে তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই নেতৃত্বের সাহসী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
জনমতের একটি বড় অংশের ভাষ্য—যখন দেশে আইনশৃঙ্খলা নেই, জানের নিরাপত্তা নেই, তখন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। তাদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়, বরং জাতীয় সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার একটি বার্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি ত্রিমুখী রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি মহল ক্ষমতায় না থেকেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছিল। আওয়ামী সরকারের পতনের পর অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তিন ছাত্র প্রতিনিধিসহ উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা হয়।— ঐ সরকারের উপর, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—প্রভাব বিস্তার করছিল বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
এ অবস্থায় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা, ক্ষমতার সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা এক ধরনের অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে গণহত্যাসহ নানা অভিযোগে নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ এবং তাদের সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোও চেয়েছিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়াই পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করতে। অভিযোগ রয়েছে, এসব উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছিল।
এই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট ভাঙতে, দেশের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পর আজ বাংলাদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে সারাদেশ থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে এই প্রত্যাবর্তন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে—সে প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।