সংস্কার কর্মসূচি সমাপ্তির পথে: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কারণে ম্লান হয়ে পড়ে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।
সংস্কার কর্মসূচি সমাপ্তির পথে: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে সেই স্বাধীনতার চেতনা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা বৈষম্যহীন সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনগণের মালিকানাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম এখন সমাপ্তির পথে। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
ভাষণে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এর আগেও জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ, সরকার পতনের এক বছর পূর্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে একাধিকবার ভাষণ দিয়েছেন। প্রতিটি ভাষণেই তিনি গণতন্ত্র, বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভাষণে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার টেকসই হবে না।
এবছর বিজয় দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি।
তফসিল ঘোষণার পরদিনই নির্বাচনী প্রচারণাকালে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্তের কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভাষণের শেষাংশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিজয় দিবস কেবল অতীত স্মরণ করার দিন নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।