যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলা দুই শিক্ষার্থী নিহত, ৯ জন আহত — সন্দেহভাজন এখনও পলাতক

যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে শনিবার ৪০০–এর বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলা দুই শিক্ষার্থী নিহত, ৯ জন আহত — সন্দেহভাজন এখনও পলাতক


হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও প্রভিডেন্স শহরের ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লকডাউনে ছিল। পরীক্ষার সময় এক বন্দুকধারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ভবনে প্রবেশ করার পর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলার পর ক্যাম্পাসের আশপাশের রাস্তাগুলোতে অসংখ্য জরুরি যানবাহন অবস্থান নেয় এবং পুরো শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালালেও সন্দেহভাজন তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।


এফবিআই ও এটিএফ যুক্ত, সন্দেহভাজনের পরিচয় অজানা

কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজনকে ধরতে পুলিশ এফবিআই (Federal Bureau of Investigation) এবং বিউরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস (ATF)–এর সঙ্গে যৌথভাবে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করছে।

প্রভিডেন্স পুলিশের ডেপুটি চিফ টিমোথি ও’হারা বলেন, সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ একটি ভিডিও প্রকাশ করবে, যেখানে সন্দেহভাজনকে দেখা গেছে—
তিনি একজন পুরুষ, বয়স আনুমানিক ৩০-এর কোঠায়, কালো পোশাক পরিহিত এবং সম্ভবত মুখে মাস্ক ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


পরীক্ষার সময় খোলা দরজা, সেখান থেকেই পালায় হামলাকারী

পুলিশ জানায়, হামলাকারী বারাস অ্যান্ড হোলি (Barus & Holley) ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনে গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরীক্ষার কারণে ভবনের বাইরের দরজাগুলো খোলা ছিল, যা হামলাকারীর পালাতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


হতাহতদের অবস্থা গুরুতর

ব্রাউন ইউনিভার্সিটি হেলথ জানিয়েছে, আহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (ক্রিটিক্যাল)

প্রভিডেন্সের মেয়র ব্রেট স্মাইলি বলেন,

“ক্রিসমাস আর মাত্র দেড় সপ্তাহ দূরে। আর আজ দুজন মানুষ মারা গেল। দয়া করে নিহতদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।”


শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক: ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কের নিচে

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যেখানেই আছেন সেখানেই আশ্রয় নিতে (shelter in place) নির্দেশ দেয়।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চিয়াং-হেং চিয়েন স্থানীয় টিভি চ্যানেল WJAR-কে বলেন,
তিনি তিনজন সহপাঠীর সঙ্গে একটি ল্যাবে কাজ করছিলেন, তখন কাছাকাছি এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর সতর্কবার্তা পান। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ডেস্কের নিচে লুকিয়ে ছিলেন।


গভর্নর ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া

রোড আইল্যান্ডের গভর্নর ড্যানিয়েল ম্যাকি আশ্বাস দিয়ে বলেন,

“যে ব্যক্তি এত মানুষের জীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, তাকে আমরা অবশ্যই বিচারের আওতায় আনব।”

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,

“আমি এই ভয়াবহ ঘটনার বিষয়ে অবগত। এই মুহূর্তে আমরা শুধু নিহতদের এবং গুরুতর আহতদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি।”


উৎসবের ভিড়েই অভিযান জটিল

কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহান্তে শহরে ছুটির কেনাকাটা, কনসার্ট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি থাকায় সন্দেহভাজনকে ধরার অভিযান জটিল হয়ে পড়ে। আশপাশের শহর ও অঙ্গরাজ্য থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ফেডারেল বাহিনী সহায়তায় যুক্ত হয়েছে।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।
ডেপুটি চিফ ও’হারা বলেন,

“কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোটিই কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।”


যুক্তরাষ্ট্রে গণহামলার বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও ধর্মীয় স্থানে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা বেশি, যার অন্যতম কারণ দেশটির তুলনামূলকভাবে শিথিল অস্ত্র আইন।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ–এর তথ্য অনুযায়ী,

  • চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৯টি গণগুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে

  • এর মধ্যে অন্তত ৬টি স্কুলে

  • গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫০০–এর বেশি

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর