যুক্তরাষ্ট্রে আজ একাধিক বড় ঘোষণায় কাঁপলো ওয়াশিংটন—সামরিক আধুনিকায়ন থেকে শিশুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ পর্যন্ত সবখানেই নতুন যুগের সূচনা
আজকের যুক্তরাষ্ট্রে যা যা ঘটেছে—সবগুলোই ছিল বড়, যুগান্তকারী এবং প্রভাবশালী। সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা, শিশুদের জন্য আর্থিক বিনিয়োগ, হোয়াইট হাউসের লাইভ ক্যাবিনেট মিটিং, এবং নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটন আজ ছিল ঘটনাপূর্ণ। চলুন দেখে নিই একনজরে আজকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে আজ একাধিক বড় ঘোষণায় কাঁপলো ওয়াশিংটন—সামরিক আধুনিকায়ন থেকে শিশুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ পর্যন্ত সবখানেই নতুন যুগের সূচনা
দেশের সামরিক নীতি, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক বিতর্ক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ—এসবের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আজ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন দপ্তরের নীতি পরিবর্তন, দাতব্য উদ্যোগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে দিনটি ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল।
সামরিক সক্ষমতায় নাটকীয় পরিবর্তনের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার ডিপার্টমেন্ট আজ সামরিক আধুনিকায়নের এক নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করেছে। সেক্রেটারি অব ওয়ার পিট হেগসেথ জানান যে সদ্য অনুমোদিত “বিগ বিউটিফুল বিল”-এর তহবিল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তা ব্যবহার করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-প্রস্তুতিকে আগামী প্রজন্মের মানদণ্ডে উন্নীত করতে।
তিনি বলেন, এই পুরো কর্মসূচি “ড্রোন ডমিন্যান্স” নামে পরিচিত হবে—যার মূল লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার আধিপত্য ফের প্রতিষ্ঠা করা।
এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক ড্রোন, এআই-চালিত যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘ-পাল্লার সেন্সর, উন্নত টার্গেটিং প্রযুক্তি, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।
হেগসেথের ভাষায়—“যদি আজই আমাদের লড়াই করতে হয়, তবে আমাদের বাহিনীর হাতে থাকবে সেরা অস্ত্র, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এটাই ‘ফাইট টুনাইট’ দর্শন।”
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
২৫ মিলিয়ন আমেরিকান শিশুর জন্য ভবিষ্যত-নিরাপত্তা: ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ উদ্যোগ
দেশের ২৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ শিশু-কেন্দ্রিক দাতব্য ঘোষণা এসেছে ডেল পরিবারের পক্ষ থেকে। গিভিং টিউজডে উপলক্ষে তারা জানায়—২৫ মিলিয়ন আমেরিকান শিশুর “ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে” যুক্ত করা হবে প্রাথমিক ব্যক্তিগত বিনিয়োগ।
সরকার, পরিবার এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বিশেষ অ্যাকাউন্টগুলো শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলবে। পরবর্তীতে সেই সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারবে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা শুরু বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রয়োজনগুলোয়।
হোয়াইট হাউস বলছে—এই উদ্যোগ শুধু বর্তমান প্রজন্মই নয়, বরং আগামী কয়েক দশক ধরে আমেরিকার অর্থনীতিতে সমতা ও সমৃদ্ধির নতুন ভিত্তি তৈরি করবে।
মাইকেল ডেলের ৬.২৫ বিলিয়ন ডলারের অতুলনীয় দান
আজকের আরেকটি যুগান্তকারী দাতব্য ঘোষণা এসেছে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল ও তার স্ত্রী সুসান ডেলের পক্ষ থেকে। তারা “ইনভেস্ট আমেরিকা” উদ্যোগে দান করছেন ৬.২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বরাদ্দ করা হবে ২৫ মিলিয়ন শিশুর জন্য।
প্রতি শিশু পাবে ২৫০ ডলার করে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে।
অর্থনীতিবিদরা এটিকে আমেরিকার শিশুদের জন্য এক অভূতপূর্ব বেসরকারি অবদান হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের মতে—এই দান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা-বান্ধব পরিবেশ গঠনে গভীর প্রভাব ফেলবে।
ক্রিসমাস উপলক্ষে ফার্স্ট লেডির ঐক্য ও শান্তির বার্তা
বড়দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ফার্স্ট লেডি একটি আবেগঘন বার্তায় আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্য, শান্তি ও কৃতজ্ঞতার প্রতি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন দেশের ভেতর ও বাইরে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনরত সেনা সদস্যদের এবং তাঁদের পরিবারের ত্যাগকে।
ফার্স্ট লেডি বলেন—“এই ক্রিসমাসে আমাদের ঘরগুলো ভরে উঠুক শান্তিতে, আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে আনুক নিরাপদে, এবং প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক কৃতজ্ঞতায়।”
এ বছর তাঁর বার্তায় সামরিক পরিবারগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনে নতুন প্রেস কর্পসের যাত্রা
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পেন্টাগনে নতুন প্রেস কর্পসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ডিওডব্লিউ–এর প্রেস সেক্রেটারি জানান—মূলধারার কিছু বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পেন্টাগন কাভারেজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তাদের জায়গায় নতুন প্রজন্মের রিপোর্টার, ডিজিটাল সাংবাদিক এবং স্বাধীন মিডিয়াকেই পেন্টাগন ব্রিফিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রেস সেক্রেটারি বলেন—“লেগেসি মিডিয়া স্বেচ্ছায় সরে গেছে—এবং সংখ্যাগুলো দেখলে স্পষ্ট হয় কেন কেউ তাদের অনুসরণ করেনি।”
নতুন প্রেস কর্পসকে বলা হচ্ছে প্রতিরক্ষা সাংবাদিকতায় এক “নতুন যুগ”।
লাইভ ক্যাবিনেট মিটিং: স্বচ্ছতার শীর্ষে ওয়াশিংটন
হোয়াইট হাউসে আজ চলমান ক্যাবিনেট মিটিংকে কেন্দ্র করে বিশেষ আপডেট দিয়েছেন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ড্যান স্কাভিনো। তিনি জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অতিক্রান্ত করেছে এবং এটি সম্পূর্ণ লাইভ দেখা যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স চ্যানেলে।
স্কাভিনো এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে “সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া” বলে উল্লেখ করেন।
নাগরিকরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের আলোচনা দেখতে পাচ্ছেন—যা প্রশাসনিক জবাবদিহির এক নতুন মানদণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক নীতিতে ‘প্যারালাল প্রস্পেরিটি’ মডেলের বিস্তৃতি
আজ আরেকটি আলোচিত বক্তব্য আসে সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছ থেকে। তিনি মনে করেন—দাতব্য খাত এবং অর্থনৈতিক নীতিতে এখন “বিপ্লবী পরিবর্তন” চলছে।
বেসেন্ট বলেন—“যেখানে মেইন স্ট্রিট ও ওয়াল স্ট্রিট একসঙ্গে সমৃদ্ধ হয়, সেটাই ‘প্যারালাল প্রস্পেরিটি’—এবং এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক দর্শনের বাস্তব রূপ।”
এই মডেল কর্মজীবী পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সুযোগের ব্যবধান কমাতে ভূমিকা রাখবে।
আফগান শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে নতুন বিতর্ক
আফগানিস্তান থেকে আনা কিছু পুরুষকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হয়েছিল—এবং তাঁদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে—এ তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ওয়াশিংটনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক ব্রেয়ানা মোরেলো দাবি করেছেন—এ ধরনের অভিযোগের প্রকৃত সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং পেন্টাগনের কাছে তিনি এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি করেছেন।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মতে—যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই ব্যক্তিদের ঘাঁটিতে রাখার সিদ্ধান্ত ছিল “একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা”।
পেন্টাগন জানিয়েছে, সব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করা হয়েছে।
হেগসেথ দম্পতির ব্যক্তিগত ও জাতীয় আলোচনায় ‘দ্য কেটি মিলার পডকাস্ট’
দিনের শেষ আলোচনার শিরোনাম ছিল “দ্য কেটি মিলার পডকাস্ট”—যেখানে অতিথি ছিলেন পিট ও জেনি হেগসেথ।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা কথা বলেন পরিবার, সন্তান লালনপালনের অভিজ্ঞতা, ক্যারিয়ার পরিবর্তন, দেশের বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে।
শো হোস্ট কেটি মিলারের মতে, এটি ছিল অত্যন্ত অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক এক পর্ব।
সারসংক্ষেপ
আজকের আমেরিকা—একদিকে সামরিক প্রযুক্তির নবযুগ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার বিশাল দাতব্য পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, মিডিয়া পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক বিতর্ক, এবং পরিবারকেন্দ্রিক বার্তা—মিলে আজকের যুক্তরাষ্ট্র ছিল বহুমাত্রিক ঘটনাবহুল।