ফেক নিউজের বিরুদ্ধে আক্রমণে হোয়াইট হাউসের নতুন উদ্যোগ!
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গণমাধ্যমকে চাপের মুখে ফেলতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়েছে “Media Offender of the Week”—একটি বিশেষ বিভাগ, যেখানে তারা ‘ভুল’, ‘বিকৃত’ বা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর’ খবর প্রকাশকারী সংস্থাগুলোকে নামসহ তুলে ধরছে। “অবৈধ আদেশ” বিতর্ককে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট ও সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করায় এই নতুন উদ্যোগ এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
ফেক নিউজের বিরুদ্ধে আক্রমণে হোয়াইট হাউসের নতুন উদ্যোগ!
ওয়েবসাইটে নতুন একটি বিতর্কিত সেকশন চালু করেছে হোয়াইট হাউস—যার নাম “Media Offender of the Week”। এই বিভাগে প্রশাসন প্রতি সপ্তাহে এমন সংবাদমাধ্যমকে তুলে ধরবে, যাদের তারা “Fake News Media” হিসেবে চিহ্নিত করছে।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন ও মিডিয়া মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
‘অবৈধ আদেশ’ বিতর্কে হোয়াইট হাউসের পাল্টা ব্যাখ্যা
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো অবৈধ সামরিক আদেশ দেননি। তারা অভিযোগ তুলেছে যে,
ডেমোক্র্যাটরা এবং “ফেক নিউজ মিডিয়া” ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি অবৈধ আদেশ জারি করেছিলেন।
তারা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সব আদেশ দিয়েছেন, সেগুলো সবই আইনসম্মত। কংগ্রেসের সদস্যদের এমন বক্তব্য সেনাবাহিনীতে অবাধ্যতা উসকে দিতে পারে। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে—
ডেমোক্র্যাটরা এমন একটি ভিডিও ছড়িয়েছে, যেখানে সেনা সদস্যদের চেইন অব কমান্ড অমান্য করতে নির্দেশনা দেওয়ার মতো বার্তা রয়েছে।
যদিও তারা জানে যে ট্রাম্প কোনো অবৈধ আদেশ দেননি, তবুও “ফেক নিউজ মিডিয়া” সচেতনভাবেই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
“Offender Hall of Shame”: একাধিক বড় সংবাদমাধ্যম তালিকাভুক্ত
নতুন ওয়েবসাইট সেকশনে শুধু সাপ্তাহিক অপরাধী তালিকাই নয়, আরও একটি স্থায়ী তালিকা রাখা হয়েছে—“Offender Hall of Shame”।
এতে তালিকাভুক্ত গণমাধ্যমগুলো হলো—
CNN
MS NOW (আগের MSNBC)
The Washington Post
CBS News (দ্বিতীয়বারের মতো)
এর নিচে আরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরকে “Bias”, “Lie”, “Malpractice”, “Left-wing Lunacy” ইত্যাদি শিরোনামের অধীনে শ্রেণিবদ্ধ করে প্রদর্শন করা হয়েছে।
---
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের এই পাতায় নিজেদের নাম দেখতে পেয়ে The Washington Post প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পত্রিকার এক মুখপাত্র বলেছেন— “The Washington Post তার নির্ভুল ও গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য গর্বিত।”
সংবাদমাধ্যমটি হোয়াইট হাউসের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক এবং গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন—
হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপ গণমাধ্যমকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার একটি নতুন পর্যায় তৈরি করেছে।
বিরোধীরা বলছে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।