হোয়াইট হাউসের কাছে হামলার পর ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও জানিয়েছে, শরণার্থীরা আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষার অধিকারী এবং তাদের যথাযথ due process নিশ্চিত করতে হবে।

PostImage

হোয়াইট হাউসের কাছে হামলার পর ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রশাসন “তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ” থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবে। বুধবারের ওই হামলায় এক নারী ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন। সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন আফগান জাতীয়, যিনি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন—

“আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেব যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে। বাইডেনের ‘অবৈধ অনুমোদন’ বাতিল করব এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্পদ নয় তাদের সবাইকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, অ-নাগরিকদের জন্য সকল ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে এবং “দেশের শান্তি নষ্টকারী” অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বহিষ্কার করা হবে। কারা “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” হিসেবে বিবেচিত হবে বা “স্থায়ীভাবে স্থগিত” নীতির পরিধি কী— সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI) হামলাকারীর উদ্দেশ্য ও পটভূমি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আফগান পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, যা পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের সময়ে চালু ছিল।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে শরণার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করতে। জাতিসংঘের মহাসচিবের উপপ্রধান মুখপাত্র ফারহান হক বলেন—

“যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশকেই ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও জানিয়েছে, শরণার্থীরা আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষার অধিকারী এবং তাদের যথাযথ due process নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, একক কোনো ঘটনার পর পুরো বিশ্বজুড়ে অভিবাসন কঠোর করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকরা মনে করছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আপনি চাইলে আমি এই খবরটি টিভি স্ক্রিপ্ট, সংবাদ পাঠের স্টাইল, বা সংক্ষিপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর