কিয়েভকে পুতিনের সতর্কবার্তা: “পিছু হটুন, নইলে আমরা শক্তি দিয়ে করাব
পুতিন বলেন, “অতএব সাধারণভাবে আমরা অবশ্যই ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে এটি কার্যত অসম্ভব। আইনগতভাবে অসম্ভব।” তিনি জানান, রাশিয়ার দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ (২০১৪ সালে দখল ও সংযুক্তকরণ) এবং পূর্বাঞ্চলের দোনবাস অঞ্চল নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত।
কিয়েভকে পুতিনের সতর্কবার্তা: “পিছু হটুন, নইলে আমরা শক্তি দিয়ে করাব
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচিত খসড়া শান্তি পরিকল্পনার রূপরেখা ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে তা গ্রহণযোগ্য না হলে রাশিয়া লড়াই চালিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী এই সংঘাত থামাতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা শান্তি প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
পুতিন কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সাধারণভাবে আমরা একমত যে এটি ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।” তিনি জানান, জেনেভায় ওয়াশিংটন ও কিয়েভের আলোচনায় ব্যবহৃত পরিকল্পনার সংস্করণটি মস্কোর কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকরা বৈঠক করেন।
পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অবস্থানকে বিবেচনায় নিচ্ছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনো আলোচনা বাকি। ইউরোপ যদি রাশিয়ার কাছ থেকে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি চায়, তাহলে রাশিয়া এমন প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, রাশিয়াকে বলা হচ্ছে লড়াই বন্ধ করতে, কিন্তু এর আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পিছিয়ে যেতে হবে। পুতিনের ভাষায়, “ইউক্রেনীয় সেনাদের তাদের দখলকৃত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে, এরপরই যুদ্ধ থামবে। যদি তারা না সরে, তবে আমরা সশস্ত্র উপায়ে এটি অর্জন করব। এটাই।”
তিনি দাবি করেন, রাশিয়ান বাহিনী এখন ইউক্রেনে আরও দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে আরেকটি শীত আসন্ন, এবং এসময় রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে।
পুতিন আরও বলেন, তিনি ইউক্রেনের নেতৃত্বকে অবৈধ মনে করেন এবং তাই কিয়েভের সঙ্গে আইনগতভাবে কোনো চুক্তি করা সম্ভব নয়।
তাই তিনি মনে করেন, যে কোনো সম্ভাব্য চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাওয়া জরুরি—বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার অর্জিত ভূখণ্ডগুলোর স্বীকৃতি।
পুতিন বলেন, “অতএব সাধারণভাবে আমরা অবশ্যই ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে এটি কার্যত অসম্ভব। আইনগতভাবে অসম্ভব।”
তিনি জানান, রাশিয়ার দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ (২০১৪ সালে দখল ও সংযুক্তকরণ) এবং পূর্বাঞ্চলের দোনবাস অঞ্চল নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহে মস্কো সফর করবেন।
ট্রাম্প ও পুতিনের শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে পুতিন বলেন, উইটকফ ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষে পক্ষপাত দেখিয়েছেন—এমন ধারণা “নিরর্থক”।
ব্লুমবার্গ নিউজ ১৪ অক্টোবরের একটি ফোনালাপের প্রতিলিপি প্রকাশ করে, যেখানে উইটকফকে দেখা যায় পুতিনের পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভকে ট্রাম্পের কাছে শান্তি পরিকল্পনা কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে।