স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভিযোগ: আগের প্রশাসনের ‘চরম DEI এজেন্ডা’ বিদেশি সেবা কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করেছে
“পূর্ববর্তী প্রশাসন বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের নামে প্রমোশন প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রঙ দিয়েছিল। আমরা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করছি।”
স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভিযোগ: আগের প্রশাসনের ‘চরম DEI এজেন্ডা’ বিদেশি সেবা কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করেছে
আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Department of State) অভিযোগ করেছে যে আগের প্রশাসনের “চরম DEI (Diversity, Equity & Inclusion) এজেন্ডা” সরকারি কর্মীদের ওপর “আদর্শিক পরীক্ষা” (ideological litmus test) চালু করেছিল, যার ফলে প্রায় ৩০০ জন ফরেন সার্ভিস অফিসার (FSO) প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনের নীতিগুলো “যোগ্যতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল।” এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা প্রমোশন বোর্ডে পিছিয়ে পড়েন এবং ন্যায্য মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন।
পদোন্নতি বঞ্চিত ৩০০ কর্মকর্তাকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বহনের ঘোষণা
বর্তমান প্রশাসন জানায়, তারা এখন “যোগ্যতাভিত্তিক” (merit-based) মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করছে এবং যেসব কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ (restitution) প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান—
“পূর্ববর্তী প্রশাসন বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের নামে প্রমোশন প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রঙ দিয়েছিল। আমরা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করছি।”
“অবিচার সংশোধন” — নতুন প্রশাসনের অবস্থান
দপ্তরটি আরও জানায় যে প্রমোশন রিভিউ বোর্ড পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে প্রতিটি বঞ্চিত কর্মকর্তার সার্ভিস রেকর্ড পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে কিছু অফিসার ইতোমধ্যে প্রমোশন পুনঃপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র
এই পদক্ষেপকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে—
-
রিপাবলিকানরা বলছে, আগের প্রশাসনের DEI নীতি ছিল “চরমপন্থী ও বিভাজনমূলক”
-
ডেমোক্র্যাটরা পাল্টা অভিযোগ করছে যে নতুন প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে DEI কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে
ফরেন সার্ভিসে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, প্রমোশন বঞ্চিত প্রায় ৩০০ কর্মকর্তার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সেবা ব্যবস্থায় নীতি-পরিবর্তনের একটি বড় ইঙ্গিত।