ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের ঝলক দেখল বিশ্ব
হোয়াইট হাউজে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের ঝলক দেখল বিশ্ব
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) আনুষ্ঠানিক ও জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর এমবিএস-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পর তার এ সফরকে তাই অনেকেই “ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন।
সাউথ লনে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ড ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে ক্রাউন প্রিন্সকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকের শুরুতে উভয় নেতাই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস বলেন,
“সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চাই।”
ট্রাম্প জানান,
“মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমবিএস-এর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খাশোগি হত্যার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সংস্কার, ভিশন ২০৩০ এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—যা তাকে পুনরায় বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রভাব প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিচ্ছে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে—
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি
সৌদি–যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ইসরায়েল–হামাস সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা
জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের বাজার
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিনিয়োগ সুযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ওয়াশিংটন-রিয়াদ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশেষত প্রতিরক্ষা জোট ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে বিবেচনা করতে পারে।
এ সফর ট্রাম্প প্রশাসন ও সৌদি নেতৃত্ব—উভয়ের জন্যই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।