যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল, অর্থনৈতিক আস্থায় নতুন পতন দেখা গেল
নতুন জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আস্থা কমেছে; মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলো দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ বেশি অনুভব করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অর্থনীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা অক্টোবরে আরও কমেছে। বাজারে পণ্য কেনার খরচ, জ্বালানির মূল্য এবং ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলো এই চাপ সামলাতে বেশি সমস্যায় পড়ছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর প্রকাশিত মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক জরিপে এ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা সূচক সেপ্টেম্বরে ৪৮ দশমিক ১ থাকলেও অক্টোবরে নেমে এসেছে ৪৬ দশমিক ৩-এ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সূচকটি আরও কমেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের প্রত্যাশা বোঝার ক্ষেত্রে এই সূচক ব্যবহার করা হয়। সূচক কমে যাওয়ার অর্থ হলো, আগের তুলনায় মানুষ অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে বেশি হতাশ বা উদ্বিগ্ন। তবে এই ফলাফল দিয়ে দেশের সব মানুষের আর্থিক অবস্থা একই রকম—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
চাকরির বাজারের পরিস্থিতিও পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত আয় থাকলেও ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়া, বেতন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে মানুষ বড় কেনাকাটা বা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক হয়ে পড়ে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি দুর্বল হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
অর্থনীতির এই পরিস্থিতি সুদের হার ও ঋণ নেওয়ার খরচের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা অন্যান্য ঋণের সুদ বেশি থাকলে পরিবারের মাসিক ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ একই সময়ে থাকলে নীতিনির্ধারকদের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ভোক্তা আস্থা কমেছে বলেই অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার অবশ্যই বাড়বে বা কমবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভোটাররা সংসারের খরচ, জ্বালানির দাম, চাকরি এবং আয় দিয়ে কতটা প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একটি জরিপের ফলাফল দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।



