চাকরি হারানোর ভয় কম, কিন্তু নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন আমেরিকায়
আমেরিকায় ছাঁটাই কমলেও নতুন নিয়োগ ধীর, চাকরিপ্রার্থীদের অপেক্ষা বাড়ছে; দীর্ঘদিন বেকার থাকা মানুষের সংখ্যাও পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চাকরি হারানোর ভয় কম, কিন্তু নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন আমেরিকায়
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এখন তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। একদিকে চাকরি হারানোর ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন চাকরি পাওয়া আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বেকার ভাতা পাওয়ার আবেদন কিছুটা কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে নিয়োগের গতি দুর্বল থাকায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অর্থনীতিবিদেরা এই পরিস্থিতিকে এমন একটি বাজার হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করতে চাইছে না, কিন্তু নতুন কর্মী নিয়োগও করছে না।
শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ এক সপ্তাহে আবেদন সামান্য কমেছে। টানা চার সপ্তাহ ধরে নতুন বেকার ভাতার আবেদন ২ লাখের নিচে বা তার কাছাকাছি রয়েছে, যা কয়েক দশকের তুলনায় খুবই নিচু পর্যায়।
এটি সাধারণ কর্মীদের জন্য আপাতদৃষ্টিতে ভালো খবর। কারণ এর অর্থ হলো, বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কর্মী ছাঁটাই করছে না। যারা বর্তমানে চাকরিতে আছেন, তাদের অনেকের চাকরি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ছবিটা একেবারেই আলাদা।
কারণ নতুন নিয়োগের গতি অনেক ধীর হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে নতুন চাকরি তৈরির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যা। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখে পৌঁছেছে। মোট বেকার মানুষের মধ্যে তাদের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ চাকরি হারানোর পর দ্রুত নতুন চাকরি পাওয়া সবার জন্য সহজ হচ্ছে না।
রয়টার্সের বিশ্লেষণেও একই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখতে চাইছে, কিন্তু নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক। ফলে চাকরির বাজারে তৈরি হয়েছে কম ছাঁটাই ও কম নিয়োগের পরিস্থিতি। যারা চাকরিতে আছেন, তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে পারেন; কিন্তু যারা চাকরি হারিয়েছেন বা নতুন করে কর্মজীবনে ঢুকতে চাইছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন।
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের অর্থ কী?
সহজভাবে বললে, আগে যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কয়েকজন নতুন কর্মী নিয়োগ করত, এখন একই পদে একজন বা দুজন নিয়োগ দিতে পারে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান পদ খালি হওয়ার পরও দ্রুত নতুন কর্মী নিচ্ছে না। ফলে চাকরির বিজ্ঞপ্তি থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে বেশি সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া কর্মী এবং দীর্ঘদিন বেকার থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিয়োগ কমে গেলে একই পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তখন অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের প্রশিক্ষণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব খাতের পরিস্থিতি এক নয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে। হাসপাতাল এবং বহির্বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ বাড়লেও নার্সিং ও আবাসিক সেবার কিছু অংশে চাকরি কমেছে। নির্মাণ খাতেও প্রায় ১১ হাজার চাকরি বেড়েছে এবং উৎপাদন খাতে প্রায় ৯ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে।