নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের বড় স্বস্তি, এক বছরেও বাড়ছে না স্থিতিশীল ভাড়া

নিউইয়র্ক শহরের স্থিতিশীল ভাড়ার নতুন চুক্তিতে ১ অক্টোবর থেকে এক ও দুই বছরের জন্য ভাড়া বাড়ানোর হার শূন্য রাখা হয়েছে।

নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের বড় স্বস্তি, এক বছরেও বাড়ছে না স্থিতিশীল ভাড়া

নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের বড় স্বস্তি, এক বছরেও বাড়ছে না স্থিতিশীল ভাড়া


নিউইয়র্ক শহরে বসবাসরত লাখো ভাড়াটিয়ার জন্য শুরু হয়েছে তুলনামূলক স্বস্তির একটি নতুন সময়। শহরের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুরু হওয়া স্থিতিশীল ভাড়ার নতুন চুক্তিতে এক বছরের চুক্তির জন্য ভাড়া বাড়ানোর হার শূন্য শতাংশ এবং দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রেও ভাড়া বাড়ানোর হার শূন্য শতাংশ রাখা হয়েছে। 


এর অর্থ হলো, যেসব ভাড়াটিয়ার বাসা নিউইয়র্ক শহরের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, তাদের নতুন করে এক বছরের চুক্তি করলে নিয়ম অনুযায়ী শুধু এই বোর্ডের নির্ধারিত বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়বে না। দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রেও একইভাবে নির্ধারিত বৃদ্ধি শূন্য রাখা হয়েছে। 


বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোর জন্য এই খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক শহরের কুইন্স, বিশেষ করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বহু পরিবার বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। পরিবারের আয়, খাবারের দাম, বিদ্যুৎ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে ভাড়ার চাপও তাদের মাসিক বাজেটের বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক শহরের সব ভাড়ার ওপর এই শূন্য শতাংশ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এটি মূলত ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বা স্থিতিশীল নির্দিষ্ট বাসাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাজারদরের সাধারণ বাসার ভাড়া মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। 


নিউইয়র্ক শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাজারদরের সাধারণ বাসার ভাড়া নির্ধারণ করে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড নয়। এসব বাসার ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারিত হয়। তাই কোনো ভাড়াটিয়া শুধু সংবাদটি দেখে ধরে নিতে পারবেন না যে আগামী এক বছর তার বাসার ভাড়া অবশ্যই একই থাকবে। 


অন্যদিকে নিউইয়র্ক শহরের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব স্থিতিশীল বাসার নতুন চুক্তি শুরু হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এক বছরের চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির হার শূন্য এবং দুই বছরের চুক্তিতেও বৃদ্ধির হার শূন্য। 


এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনার খরচ এখনো অনেক বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের বন্ধকি ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এক সপ্তাহ আগেও এই হার ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।


সুদের হার বাড়ার কারণে যারা বাড়ি কিনতে চান, তাদের মাসিক কিস্তির চাপও বাড়ছে। ফলে অনেক পরিবার বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে ভাড়ার বাসাতেই থেকে যাচ্ছে। একই সময়ে ভাড়ার বাজারেও সব জায়গায় দাম কমছে না।


আবাসনবিষয়ক সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ভাড়ার গড় মূল্য আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৩২ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে ভাড়া আবার বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। 


নিউইয়র্ক শহরের পরিস্থিতিও ব্যয়বহুল। অক্টোবর ৬-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরে সব ধরনের বাসা মিলিয়ে গড় মাসিক ভাড়া প্রায় ৩ হাজার ৬৩১ ডলার। আগের মাসের তুলনায় এটি ১৯ ডলার কম হলেও এক বছর আগের তুলনায় ২৫ ডলার বেশি। 


তাই স্থিতিশীল ভাড়ার বাসায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য শূন্য শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে। ধরা যাক, কোনো পরিবারের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৫০০ ডলার। যদি ভাড়া বাড়ানোর হার দুই বা তিন শতাংশ হতো, তাহলে মাসে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতো। কিন্তু নির্ধারিত বৃদ্ধির হার শূন্য হওয়ায় ওই পরিবারকে শুধু বোর্ডের অনুমোদিত বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না।


তবে ভাড়াটিয়াদের চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়া জরুরি। বাড়ির মালিক কোনো অতিরিক্ত বৈধ খরচ, পুরোনো বকেয়া, অনুমোদিত বিশেষ সমন্বয় বা অন্য কোনো আইনসম্মত পরিবর্তনের দাবি করছেন কি না, সেটিও আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। শুধু শূন্য শতাংশ বৃদ্ধির নিয়ম দেখে সব ধরনের ভাড়া পরিবর্তনকে অবৈধ মনে করা ঠিক হবে না।

নিউইয়র্ক শহরের সরকারি ভাড়াটিয়া সহায়তা ব্যবস্থায় ভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া মনে করলে তার কাছ থেকে আইনবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তাহলে সরকারি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।


বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়াটিয়ার অধিকার সম্পর্কে নিজের ধারণা পরিষ্কার রাখা। অনেক নতুন অভিবাসী ভাষাগত সমস্যার কারণে চুক্তিপত্র পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ বাড়ির মালিকের মুখের কথাকেই চূড়ান্ত ধরে নেন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


ভাড়ার চুক্তি নবায়নের আগে ভাড়াটিয়ার উচিত লিখিত চুক্তি হাতে নেওয়া এবং সেখানে মাসিক ভাড়া, চুক্তির মেয়াদ, অতিরিক্ত খরচ এবং অন্য কোনো পরিবর্তন আছে কি না তা যাচাই করা।


বিশেষ করে কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস এবং অন্যান্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় যারা বহু বছর ধরে একই বাসায় থাকছেন, তাদের নিজেদের বাসা স্থিতিশীল ভাড়ার আওতায় আছে কি না, সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর