সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টারে নিষেধাজ্ঞা, এআইয়ের বাড়তি বিদ্যুৎ-পানি নিয়ে উদ্বেগ

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ড নতুন ডেটা সেন্টার আটকে দিয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টারে নিষেধাজ্ঞা, এআইয়ের বাড়তি বিদ্যুৎ-পানি নিয়ে উদ্বেগ

সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টারে নিষেধাজ্ঞা, এআইয়ের বাড়তি বিদ্যুৎ-পানি নিয়ে উদ্বেগ


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত ডেটা সেন্টার নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার উপসাগরীয় এলাকায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ড শহর নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মঙ্গলবার নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ৪৫ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার সার্ভার পরিচালনা করে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বড় ধরনের কম্পিউটিং ক্ষমতা দরকার হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এসব স্থাপনার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্বেগ হলো, ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়লে বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের পথও তৈরি হতে পারে। বিষয়টি এখন প্রযুক্তি কোম্পানি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশকর্মীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে কাছের সান্তা ক্লারা শহর ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। সেখানে ডেটা সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ করার বদলে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ খরচ এবং বায়ুর ওপর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সান্তা ক্লারায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬টি ডেটা সেন্টার রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সান্তা ক্লারা প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে বড় প্রযুক্তি কোম্পানির উপস্থিতি এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচের কারণে ডেটা সেন্টার শিল্পের আকর্ষণ রয়েছে। তবে নতুন ডেটা সেন্টারের জন্য শহরের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো, এআই অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কীভাবে সাধারণ বাসিন্দাদের পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশগত স্বার্থ রক্ষা করা যায়। ডেটা সেন্টার থেকে বিনিয়োগ ও চাকরি তৈরি হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হলে সেই খরচ কে বহন করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু। তাই এআই শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ নতুন চাকরি ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয়েও। সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডের সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি এখন স্থানীয় বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ, আবাসন ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর