মিয়ামির রেস্তোরাঁয় তেলাপোকার উপদ্রব ও খাবারে ছত্রাক, পরপর দুইবার বন্ধ করল কর্তৃপক্ষ

মিয়ামির কোরাল গ্যাবলসের রেস্তোরাঁয় পরিদর্শনে জীবিত তেলাপোকা ও ছত্রাক পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে।

মিয়ামির রেস্তোরাঁয় তেলাপোকার উপদ্রব ও খাবারে ছত্রাক, পরপর দুইবার বন্ধ করল কর্তৃপক্ষ

মিয়ামির রেস্তোরাঁয় তেলাপোকার উপদ্রব ও খাবারে ছত্রাক, পরপর দুইবার বন্ধ করল কর্তৃপক্ষ


ফ্লোরিডার কোরাল গ্যাবলসের একটি রেস্তোরাঁয় খাদ্যনিরাপত্তা পরিদর্শনের সময় জীবিত ও মৃত তেলাপোকা, ছত্রাকের মতো বৃদ্ধি এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মিয়ামি-ডেড এলাকার মেরিক পার্কে অবস্থিত সাওয়া নামের রেস্তোরাঁটিতে ৫ অক্টোবর ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন চালায়। পরিদর্শনে মোট ১৫টি লঙ্ঘন শনাক্ত হয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল উচ্চ অগ্রাধিকারের লঙ্ঘন।

পরিদর্শকদের প্রতিবেদনে রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে জীবিত তেলাপোকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি খাবার প্রস্তুত করার কাউন্টারের ওপর দুটি জীবিত তেলাপোকা দেখা যায়। আরও কয়েকটি তেলাপোকা কুলার ইউনিটের গ্যাসকেটের ভেতর এবং কুলারের নিচে পাওয়া যায়।

রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরের বিভিন্ন অংশে মৃত তেলাপোকাও পাওয়া যায়। একটি খাবার প্রস্তুত করার এলাকায় চারটি মৃত তেলাপোকা এবং কুলার ও তাকের মাঝখানে আরও প্রায় ১১টি মৃত তেলাপোকা পাওয়ার কথা পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু পোকামাকড়ের সমস্যাই নয়, খাদ্য নিয়েও উদ্বেগজনক বিষয় পাওয়া গেছে। একটি পাত্রে ছত্রাকের মতো বৃদ্ধি পাওয়া দুটি স্ট্রবেরি শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলোর বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শক রান্নাঘরের ছাদ ও ভেন্টেও জমে থাকা খাবারের ময়লা, তেল, ধুলা এবং ছত্রাকের মতো পদার্থ দেখতে পান। রান্নাঘরের হুড ফিল্টারেও অতিরিক্ত তেলের স্তর জমে থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দুই প্যাকেট কিমা করা টুনা মাছ এমন অবস্থায় পাওয়া যায়, যা খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ছিল না। এগুলো হিমায়িত থাকার কথা থাকলেও গলে যাওয়া অবস্থায় কুলারে রাখা ছিল। ফলে ওই মাছ বিক্রি বা পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের পর রেস্তোরাঁটি ৫ অক্টোবর বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী পুনঃপরিদর্শনেও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় খোলার অনুমতি পায়নি।

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় রেস্তোরাঁগুলোর নিয়মিত খাদ্যনিরাপত্তা পরিদর্শনের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি, খাবার সংরক্ষণ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শনের আওতায় থাকে।

কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পরিদর্শনে সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। রেস্তোরাঁটি পুনরায় খোলার অনুমতি পাওয়ার আগে খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত লঙ্ঘনগুলো সংশোধন করতে হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর