আমজনতা দলের নিবন্ধন পেতে এখন কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতি জানাতে হবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমজনতা পার্টির নিবন্ধন ইস্যু। জনগণ থেকে শুরু করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা পর্যন্ত সংহতি জানালেও নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে— তবে কি এখন আমজনতার দলকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতিই প্রয়োজন?

আমজনতা দলের নিবন্ধন পেতে এখন কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতি জানাতে হবে?
আমজনতা দলের নিবন্ধন পেতে এখন কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতি জানাতে হবে?

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে নতুন রাজনৈতিক দল আমজনতা দল নিবন্ধন পেতে আমরণ অনশনে বসেছেন দলটির সদস্য সচিব তারেক রহমান। গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে তারেক রহমানের অবদান এবং তার দলের বিগত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণী-পেশা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে সংহতি জানিয়েছেন। তারপরও নির্বাচন কমিশনের মন গলেনি।

ফলে জনমনে এখন প্রশ্ন — “বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যখন খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংহতি জানালেও হয়তো কাজ হবে না; তবে কি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতির আশায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন?” এমন ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

তারেক রহমানের অনশন ও গণসংহতি

বাংলাদেশের তরুণ আলোচিত রাজনৈতিক সংগঠক তারেক রহমান এবং তার দল আমজনতা পার্টি সরকারের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসে আবেদন করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

এর প্রতিবাদে দলটির প্রধান সদস্য সচিব তারেক রহমান আমরণ অনশনে বসেছেন নির্বাচন কমিশনের গেটে, যা ইতিমধ্যে ৮৫ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে।

এই দীর্ঘ সময়জুড়ে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ এসে তারেক রহমানের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দিনরাত শত শত সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে রেখেছে — অনশনস্থল এখন পরিণত হয়েছে এক গণসংহতির মঞ্চে।

বাংলাদেশের প্রধান জনপ্রিয় দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিজেও উপস্থিত থেকে তারেক রহমানের বিগত সময়ের আন্দোলন, সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই তরুণ নেতার দলটি দ্রুত নিবন্ধন পায়।

সর্বশেষ লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (জ্যেষ্ঠ) ও এই অনশনে বসা আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান (কনিষ্ঠ)-এর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর দাবির প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিবন্ধনের পক্ষে ব্যাপক আওয়াজ তুলেছেন।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চিত্র

বাংলাদেশে বর্তমানে বিধিমালার মতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি (নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী)।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি — এদের মধ্যে অনেক দলই রাষ্ট্র ও জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখনোই অবস্থান নেয়নি, বরং ক্ষমতাসীন স্বার্থে নীরব থেকেছে বা পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছে।

অনেক নিবন্ধিত দল আছে যাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানে না, মাঠে তাদের উপস্থিতিও নেই।

তবুও সেই দলগুলো নিবন্ধন পেয়েছে, অথচ একজন আলোচিত তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক ও জনমানুষের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের দল এখনও নিবন্ধন পায়নি — বিষয়টি জনগণের কাছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।


রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি বিতর্ক: তুলনার সূত্রপাত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরেকটি প্রসঙ্গও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন, যিনি দীর্ঘ বছর কারাগারে ছিলেন এবং যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণসহ বিদ্যমান, তার দল মাত্র আবেদন করলেই রাজনৈতিক নিবন্ধন পেয়ে যায়।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—“রফিকুল আমিনের কোন যোগ্যতায় তার দলটিকে নির্বাচন কমিশন সদ্য নিবন্ধন দিল?”

তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র ও জনকল্যাণের কোনো ইতিবাচক অবদান পাওয়া যায়নি; বরং তার মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসা লক্ষ লক্ষ তরুণ-ছাত্র সমাজকে বিপথে নিয়েছিল।

যে বয়সে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার কথা, সে বয়সে ডেসটিনির চকচকে প্রলোভনে তারা কোটি টাকার ব্যবসার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ার টেবিল ছেড়ে টাকা বানানোর দৌড়ে নেমে পড়ে।

ফলস্বরূপ বহু পরিবার ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়, অসংখ্য তরুণ আর শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরতে পারেনি।

সেই রফিকুল আমিনের দল নিবন্ধন পেলেও, জনমানুষের পক্ষে আন্দোলনরত তরুণ নেতা তারেক রহমানের দল আমজনতা পার্টি এখনও নিবন্ধন পাচ্ছে না — যা ন্যায্যতা, নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের বৈষম্যমূলক অবস্থান গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য গুরুতর সংকেত।

তরুণ নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা, ও সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও যদি একটি দলকে নিবন্ধন না দেওয়া হয়, তবে এটি গণতন্ত্রে অন্যায্য বঞ্চনার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমজনতা পার্টির নিবন্ধন ইস্যু।

জনগণ থেকে শুরু করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা পর্যন্ত সংহতি জানালেও নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—

তবে কি এখন আমজনতার দলকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংহতিই প্রয়োজন?

প্রতিবেদক

Saifur Rahman

Bangladesh Correspondent

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…