চীনের সর্বাধুনিক রণতরী ‘ফুজিয়ান’ নৌবহরে যুক্ত — বড় কদম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রাধান্য এখনো টিকে আছে

‘ফুজিয়ান’ চীনের সামুদ্রিক ইতিহাসে এক বিশাল অর্জন—প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে যুদ্ধক্ষমতা, লজিস্টিক দক্ষতা, পারমাণবিক স্থায়িত্ব ও বৈশ্বিক মোতায়েনক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনেক এগিয়ে। চীনের এই নতুন রণতরী ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-বাহিনীর সমান প্রভাব অর্জনে চীনের এখনো বহু বছর সময় লাগবে।

PostImage

চীনের সর্বাধুনিক রণতরী ‘ফুজিয়ান’ নৌবহরে যুক্ত — বড় কদম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রাধান্য এখনো টিকে আছে


চীন আজ তাদের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান (Type-003)’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করেছে — যা বেইজিংয়ের দ্রুত সামরিক আধুনিকায়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং নিজে কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে দুই হাজারেরও বেশি প্রকৌশলী ও নৌকর্মী অংশ নেন।

তবে বাস্তব কৌশলগত বিশ্লেষণে দেখা যায় — এই অর্জন সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, যুদ্ধকৌশল ও বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতার সামনে চীন এখনো অনেক পিছিয়ে।


প্রযুক্তিগত অগ্রগতি — কী এসেছে, কী নেই

‘ফুজিয়ান’ চীনের প্রথম CATOBAR রণতরী, অর্থাৎ ক্যাটাপাল্ট ব্যবস্থাযুক্ত বিমানবাহী জাহাজ। এতে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপাল্ট (EMALS) প্রযুক্তি, যা ভারী যুদ্ধবিমান পূর্ণ লোডে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।
এতে J-15T, J-35 ও KJ-600 ধরনের আধুনিক বিমান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তবে প্রযুক্তি যুক্ত করলেই যে যুদ্ধক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হবে, তা নয়। EMALS ব্যবস্থাকে সফলভাবে চালাতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, ফ্লাইট ডেক ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিক সাপোর্ট ও বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা — যা সময়সাপেক্ষ।

সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু কার্যক্ষমতায় ফাঁক রয়ে গেছে

চীনের নৌবাহিনী বর্তমানে দ্রুত বড় হচ্ছে এবং নতুন জাহাজ নির্মাণে বিশ্বে অন্যতম দ্রুততম।
কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ রণতরী পরিচালনা মানে শুধু একটি বড় জাহাজ নয় — বরং একটি Carrier Strike Group (CSG), যেখানে থাকতে হয় ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন, রিফুয়েলিং ও সাপোর্ট জাহাজ, এবং আন্তর্জাতিক বেস নেটওয়ার্ক।
এই অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে গড়ে তুলেছে, যা এখনো চীনের নাগালের বাইরে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিয়ানের ফ্লাইট ডেক ও অপারেশনাল কনফিগারেশন এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো রণতরীর সমতুল্য কার্যক্ষমতা দিতে পারে।
তাদের অনুমান—চীনের এই রণতরীর কার্যকারিতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যায়ে সীমিত।


শক্তির স্থায়িত্ব — পারমাণবিক বনাম ঐতরচালিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানবাহী রণতরীগুলো পারমাণবিক শক্তিচালিত, ফলে সেগুলো দীর্ঘ সময় রিফুয়েল ছাড়াই সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।
অন্যদিকে, ‘ফুজিয়ান’ এখনো কনভেনশনাল চালিত, অর্থাৎ জ্বালানি ও সরবরাহ নির্ভরতা বেশি।
এটি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ী মোতায়েনের ক্ষমতা সীমিত করে।
চীন ইতিমধ্যে পারমাণবিক-চালিত Type-004 রণতরী পরিকল্পনা করছে, তবে বাস্তবায়নে সময় লাগবে।


অপারেশনাল অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী শতাধিক বছরের যুদ্ধঅভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।
এদের ক্যারিয়ার ফ্লিটের পাইলট ও ক্রুরা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্র ও বহুজাতিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন, যা কোনো নতুন প্রযুক্তির চেয়েও বেশি মূল্যবান।
চীনের এখনো সে অভিজ্ঞতা অর্জন বাকি, যা কার্যকর ক্যারিয়ার পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর