এআইয়ে অ্যামাজনের ১০০ কোটি ডলারের বাজি, বাড়ছে মার্কিন কর্মসংস্থান

যুক্তরাষ্ট্রে এআই বিপ্লবের নতুন অধ্যায়, অ্যামাজনের ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগে ডেটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।

এআইয়ে অ্যামাজনের ১০০ কোটি ডলারের বাজি, বাড়ছে মার্কিন কর্মসংস্থান

এআইয়ে অ্যামাজনের ১০০ কোটি ডলারের বাজি, বাড়ছে মার্কিন কর্মসংস্থান


আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব এলাকায় তাদের তথ্যকেন্দ্র রয়েছে, সেসব সম্প্রদায়ের জন্য একশ কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যামাজন জানিয়েছে, নতুন এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিল্ট টুগেদার’। এর আওতায় শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, জ্বালানি ব্যয় কমানো, পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এসব স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে শতাধিক তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ স্থগিত বা সীমিত করার উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে।

অ্যামাজনের নতুন কর্মসূচির একটি বড় অংশ হবে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়ন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে তথ্যকেন্দ্র থাকা এলাকাগুলোর তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ডিগ্রি বা সনদ পাওয়ার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। বিদ্যুৎকর্মী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ, তন্তু-যোগাযোগ প্রযুক্তিবিদ, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জননিরাপত্তা ও আধুনিক উৎপাদন খাতের মতো চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অ্যামাজন আরও জানিয়েছে, ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বছরে এক লাখ পর্যন্ত মানুষকে দক্ষ পেশার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তিনটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনা করছে, আরও ছয়টি তৈরির কাজ চলছে এবং নতুন কর্মসূচির আওতায় আরও ১৬টি কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্থানীয় মানুষের জ্বালানি ব্যয় কমানো। অ্যামাজন জানিয়েছে, বিদ্যালয়, সরকারি ভবন, অগ্নিনির্বাপণ ও পুলিশ স্থাপনা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পানি ও জ্বালানি সংরক্ষণেও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হবে।

পানি ব্যবহারের বিষয়টিও অ্যামাজনের ঘোষণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের তথ্যকেন্দ্রগুলোতে যত পানি ব্যবহার হবে, তার চেয়ে বেশি পানি স্থানীয় পরিবেশ ও সম্প্রদায়ের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অ্যামাজনের দাবি, ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী তারা এই লক্ষ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ পথে এগিয়েছে।

তথ্যকেন্দ্র ঘিরে স্থানীয় কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অ্যামাজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিসিসিপির ম্যাডিসন কাউন্টিতে নির্মাণাধীন দুটি তথ্যকেন্দ্রে বর্তমানে দুই হাজার তিনশর বেশি মানুষ নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন। কেন্দ্রগুলো চালু হলে সেখানে এক হাজার সাতশর বেশি মানুষ কাজ করবেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। জর্জিয়ার নিউটন কাউন্টিতে নির্মাণকাজে বর্তমানে প্রায় এক হাজার পাঁচশ মানুষ যুক্ত এবং কেন্দ্র চালু হলে প্রায় চারশ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যকেন্দ্র অবকাঠামোয় তারা প্রায় ২৭৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। নতুন একশ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বাইরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানির ব্যবহার, পরিবেশ এবং অবকাঠামোর ওপর চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণেই অ্যামাজন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরও স্বচ্ছভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের সঙ্গে করা চুক্তিতে গোপনীয়তা চুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

অ্যামাজনের ক্লাউড বিভাগের প্রধান ম্যাট গারম্যান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ধরে রাখতে তথ্যকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগও গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

অ্যামাজনের নতুন ঘোষণা শুধু প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ব্যয়, পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্যকেন্দ্র থাকা এলাকার বাসিন্দারা কতটা সরাসরি সুবিধা পান, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর