আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে চার নভোচারী, সফল স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ

স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন দুই মার্কিন, এক রুশ ও এক কানাডীয় নভোচারী।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে চার নভোচারী, সফল স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে চার নভোচারী, সফল স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট। রকেটটির ওপর ছিল ‘ড্রাগন’ মহাকাশযান, যাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন চার নভোচারী। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযানটি নিরাপদে কক্ষপথে পৌঁছেছে।

এই ‘ক্রু-১৩’ মিশনে রয়েছেন নাসার দুই নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার রসকসমসের মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়াতনিকভ। জেসিকা ওয়াটকিন্স এই মিশনের কমান্ডার এবং লুক ডেলানি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়াটকিন্সের এটি দ্বিতীয় মহাকাশযাত্রা হলেও ডেলানি, কুটরিক ও তেতেরিয়াতনিকভের জন্য এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা।

উৎক্ষেপণের পর ড্রাগন মহাকাশযানটি ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপ থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব কক্ষপথে এগিয়ে যায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে তাদের প্রায় ৭ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় লাগার কথা। স্টেশনের হারমনি মডিউলের একটি নির্দিষ্ট সংযোগস্থলে মহাকাশযানটির সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হলে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দ্রুততম যাত্রাগুলোর একটি হবে।

প্রায় ছয় মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করবেন ক্রু-১৩-এর সদস্যরা। সেখানে তারা মানবদেহের ওপর মহাকর্ষহীন পরিবেশের প্রভাব, রক্তপ্রবাহ ও রক্ত জমাট বাঁধার মতো বিষয়সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং মহাকাশ স্টেশনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেও অংশ নেবেন তারা।

ক্রু-১৩ মিশনটি নাসার বাণিজ্যিক ক্রু কর্মসূচির আওতায় স্পেসএক্সের মানববাহী মহাকাশযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ। এই মিশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও কানাডার মহাকাশ কর্মসূচির সদস্যরা একসঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গবেষণার কাজে যুক্ত হচ্ছেন। নতুন এই দলটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা বর্তমান নভোচারীদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর