নিউইয়র্কে জরুরি নম্বরের ত্রুটি, ৭৪২টি বিপদসংকেতের কল বাধাগ্রস্ত
প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিউইয়র্কের ৯১১ জরুরি নম্বরে ৭৪২টি কল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১৩টি কল কোনো অপারেটরের কাছে পৌঁছায়নি।
নিউইয়র্কে জরুরি নম্বরের ত্রুটি, ৭৪২টি বিপদসংকেতের কল বাধাগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে জরুরি সেবা নম্বরের প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে শত শত মানুষের বিপদসংকেতের কল বাধাগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। আগস্টে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা এই সমস্যায় মোট ৫ হাজার ৪৮৯টি জরুরি সেবা কলের মধ্যে ১ হাজার ৬৯৬টি কলে সমস্যা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৪২টি ছিল সাধারণ মানুষের করা ৯১১ নম্বরের কল।
নগর পরিষদের সাম্প্রতিক শুনানিতে কর্মকর্তারা জানান, সমস্যাগ্রস্ত ৭৪২টি কল ৩১৯টি আলাদা ফোন নম্বর থেকে করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৬ জন পরে কোনো না কোনোভাবে জরুরি সেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তবে ১১৩টি আলাদা নম্বর থেকে করা কল শেষ পর্যন্ত কোনো অপারেটরের কাছে পৌঁছায়নি।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ আগস্ট ভোর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে নগরের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই সমস্যা চলতে থাকে।
প্রাথমিকভাবে একটি নিয়মিত সফটওয়্যার উন্নয়ন কাজের পর সমস্যাটি শুরু হয়। তবে নগরের স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা তখন ত্রুটিটি শনাক্ত করতে পারেনি। পরে একজন কল গ্রহণকারী শব্দসংক্রান্ত সমস্যা লক্ষ্য করার পর বিষয়টি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়।
কর্মকর্তারা জানান, সমস্যার প্রকৃত পরিধি বুঝতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। পরে জরুরি কলগুলো ব্রুকলিনের অন্য একটি কেন্দ্রে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটের দিকে পুরো ব্যবস্থা পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে, সমস্যাটি চলাকালে সাধারণ মানুষকে কোনো গণবার্তা দেওয়া হয়নি। নগর কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রথমে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন এবং মানুষকে ৯১১ নম্বরে ফোন করা থেকে নিরুৎসাহিত করতে চাননি।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক নগর পরিষদে জরুরি নম্বরের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ওসওয়াল্ড ফেলিজ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে দ্রুত জানানোর পাশাপাশি জরুরি ব্যবস্থার বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
নগর কর্তৃপক্ষ এখন জরুরি কলের রেকর্ড পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নতুন প্রজন্মের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রকল্পটি কয়েক দফা পিছিয়েছে এবং এখন ২০২৭ সালে তা সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় জরুরি অবস্থায় ছবি ও ভিডিও গ্রহণ এবং বিপদে থাকা ব্যক্তির অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঘটনা নিউইয়র্কের জরুরি সেবা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।