হরমুজ সংকটে সিরিয়া হয়ে ইরাকে গ্যাসোলিন পাঠাচ্ছে ইরাক
হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের মধ্যে বিকল্প পথে সিরিয়ার বাণিয়াস বন্দর হয়ে ইরাকে গ্যাসোলিন পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৭টি ট্যাংকার ট্রাক ইরাকের পথে রওনা হয়েছে।
হরমুজ সংকটে সিরিয়া হয়ে ইরাকে গ্যাসোলিন পাঠাচ্ছে ইরাক
হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ ব্যবহার করছে ইরাক। সিরিয়ার বাণিয়াস বন্দর হয়ে ইরাকে গ্যাসোলিন পাঠানো শুরু হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চালানে প্রায় ৩২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন সিরিয়ার বাণিয়াস বন্দরে পৌঁছায়। পরে তা সংরক্ষণাগার থেকে ট্যাংকার ট্রাকে তুলে ইরাকের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে ৭৭টি ট্যাংকার ট্রাক বাণিয়াস থেকে ইরাক সীমান্তের দিকে রওনা হয়েছে এবং আরও গ্যাসোলিনের চালান আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে সিরিয়ার বাণিয়াস বন্দর দিয়ে সড়কপথে ইরাকে উন্নতমানের গ্যাসোলিন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থা মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের পর ইরাকের বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ। এর ফলে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে একটি নতুন স্থলভিত্তিক জ্বালানি করিডর তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে চুক্তিটি গ্যাসোলিন সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে ইরাকের বিমান যোগাযোগও সংকটের মধ্যে পড়েছে। বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দর থেকে ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে ইরাক পুরোপুরি ইরানি বিমান চলাচল বন্ধ রাখার অবস্থানে স্থায়ীভাবে চলে গেছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না। ২৬ সেপ্টেম্বর ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু বিমানবন্দরের জন্য ছাড় চাওয়ার কথা জানিয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় সফরের মতো মানবিক প্রয়োজনে ইরান-ইরাক ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে।
ফলে সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ সংকট ও ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরাক একদিকে সিরিয়া হয়ে স্থলপথে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।