রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভয়াবহ পাল্টা হামলায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১০ জন

রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দশজন সাধারণ মানুষ।

PostImage

রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভয়াবহ পাল্টা হামলায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১০ জন


রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা রক্তাক্ত যুদ্ধ নতুন করে এক বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এবং যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে চালানো সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এই সামরিক সংঘাতের ফলে উভয় দেশের অবকাঠামো ও বেসামরিক বসতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর চালানো হামলায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলে রাতের আঁধারে রাশিয়ার ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ে। এই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দুইজন নারী করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া সুমি শহরে পরিচালিত পৃথক আরেকটি রাশিয়ান বিমান হামলায় আরও দুই বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই হামলা প্রমাণ করে যে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়, যাতে এই যুদ্ধ অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।


অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীও রাশিয়ার সীমান্ত ও তাদের দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরণের পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের এই হামলায় রাশিয়া এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চল ক্রাসনোদারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত হানার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই অঞ্চলের রাজ্যপাল জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। এই হামলায় দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরে যায়, যার মধ্যে একটি জ্বালানি শোধনাগার বা তেল শোধনাগার ছিল বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলের রাশিয়ার অনুগত বা মস্কো সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতি এবং শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো ইউক্রেনের সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছে। যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনৈতিক ময়দান—উভয় ক্ষেত্রেই বর্তমানে একটি গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন সামরিক বাহিনীর হামলায় রক্তপাত বাড়ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ থামানোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই চলমান সহিংসতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ নিরপরাধ মানুষ, যাদের জীবন প্রতিদিন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর