শক্তিশালী নরইস্টারে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল, ঝুঁকিতে ৪ কোটি মানুষ
জার্সি শোরে তীব্র বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও উপকূলীয় বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন; সামনে আরও জলোচ্ছ্বাস ও ব্যাপক ভ্রমণ বিঘ্নের আশঙ্কা।
শক্তিশালী নরইস্টারে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল, ঝুঁকিতে ৪ কোটি মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী নরইস্টার আঘাত হানায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ ঝড়ের প্রভাববলয়ে পড়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলজুড়ে তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় বন্যা ও বিপজ্জনক ঢেউ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঝড়টির সবচেয়ে তীব্র প্রভাবগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে নিউ জার্সির জার্সি শোর এলাকায়। কয়েক দিন ধরে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবল বাতাস বয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় পানির উচ্চতা বেড়েছে। নিউ জার্সির বিভিন্ন ব্যাক বেতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সামনে থাকা একাধিক উচ্চ জোয়ারের সময়। ফলে উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং উপকূলের কাছাকাছি থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝড়টির গতিপথ ধীরে ধীরে আরও উত্তরের দিকে সরে যাচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় নিউ জার্সি ও লং আইল্যান্ড থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এসব অঞ্চলে বাতাস ও বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়তে পারে।
নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় শুধু ভারী বৃষ্টিই নয়, শক্তিশালী ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের মতো পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকের বাতাস সমুদ্রের পানি উপকূলের দিকে ঠেলে দেওয়ায় বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। শত শত ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগেও বিলম্ব এবং অন্যান্য সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপরও ঝড়টির চাপ বাড়ছে। শক্তিশালী বাতাসের কারণে আরও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন এবং জরুরি সেবার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো একই সময়ে একাধিক ঝুঁকি তৈরি হওয়া। ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় বন্যা, প্রবল বাতাস ও উত্তাল সমুদ্র সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নজর রাখছেন। বিশেষ করে উচ্চ জোয়ারের সময় এবং ঝড়ের কেন্দ্র উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করলে স্থানীয়ভাবে বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
জরুরি কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উপকূলের নিচু এলাকায় থাকা মানুষদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝড়টি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এলাকাতেও বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্নের বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।