ওহাইওতে ডেটা সেন্টার বাড়তেই বিদ্যুৎ বিল, শব্দদূষণ ও করছাড় নিয়ে ক্ষোভ
ওহাইওতে দ্রুত বাড়ছে ডেটা সেন্টার। এতে বিদ্যুৎ খরচ, শব্দদূষণ, পানি ব্যবহার ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানির করছাড় নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে।
ওহাইওতে ডেটা সেন্টার বাড়তেই বিদ্যুৎ বিল, শব্দদূষণ ও করছাড় নিয়ে ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টার নির্মাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হলেও, একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি, অবকাঠামো, শব্দদূষণ এবং কর-সুবিধা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ওহাইওর ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সরকারি সংস্থা ‘অফিস অব দ্য ওহাইও কনজ্যুমার্স কাউন্সেল’ জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে ২০০টিরও বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে। এসব স্থাপনা চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হয়। বড় আকারের একটি ডেটা সেন্টার এক লাখ পর্যন্ত বাড়ির সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিদ্যুৎ লাইন, সাবস্টেশন ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর খরচ কীভাবে বহন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংস্থাটির আশঙ্কা, বড় ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার খরচ যদি যথাযথভাবে তাদের ওপর না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবাসিক গ্রাহকদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
পানি ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সার্ভারগুলো ঠান্ডা রাখতে অনেক ডেটা সেন্টারে বড় ধরনের কুলিং ব্যবস্থা প্রয়োজন হয় এবং কিছু স্থাপনা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে পারে। এর পাশাপাশি ডেটা সেন্টারের যন্ত্রপাতি ও কুলিং ব্যবস্থা থেকে তৈরি শব্দ, বড় স্থাপনার প্রভাব এবং জমির ব্যবহার নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ কারণে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় উদ্যোগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লিভল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টারের অনুমতি দেওয়ার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য নতুন নিয়ম তৈরির বিষয়ে জনমত নেওয়া হচ্ছে। কলম্বাসেও বড় ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের খরচ স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব এসেছে।
ডেটা সেন্টার নিয়ে কর-সুবিধার বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে ওহাইওতে দেওয়া কর-সুবিধা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, বড় কোম্পানিকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে স্থানীয় জনগণ কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর অতিরিক্ত খরচ কে বহন করছে।
ডেটা সেন্টারের সমর্থকেরা বলছেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসে, নির্মাণকাজে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং প্রযুক্তি খাতের বিকাশ ঘটে। ওহাইওতেও আগামী কয়েক বছরে ডেটা সেন্টার খাতে আরও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, পানির ব্যবহার এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য খরচের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ নিয়ে বিতর্ক শুধু ওহাইওতেই সীমাবদ্ধ নেই। ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ এমন একটি বিল পাস করেছে, যাতে বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ডেটা সেন্টারের কারণে প্রয়োজনীয় নতুন অবকাঠামোর খরচ তাদের ওপর দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য নিয়ন্ত্রকদের বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
ফলে ওহাইওতে ডেটা সেন্টার নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের বিষয় নয়। একদিকে এআই ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ—এই দুই দিকের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়, সেটিই এখন অঙ্গরাজ্যটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।