সাইবার অপরাধ ঠেকাতে বাংলাদেশ–চীন একসঙ্গে, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বাড়ছে সহযোগিতা
বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ।
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে বাংলাদেশ–চীন একসঙ্গে, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বাড়ছে সহযোগিতা
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিআইডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে। দলটি চীনের সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশিত সংবাদেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, আগামী অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীর শুভেচ্ছাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। পাশাপাশি চীনে জননিরাপত্তাবিষয়ক ফোরামে অংশগ্রহণ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণের কথাও জানান।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সালাহউদ্দিন আহমদ ও ইয়াও ওয়েনের আরেক বৈঠকেও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পুলিশে বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের চীনের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগার ও কার্যক্রম পরিদর্শনের পরামর্শ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিআইডির নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানো হবে। পরিদর্শন শেষে দলটি বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ফরেনসিক পরীক্ষাগার, প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম স্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। চলতি বছর দুই দেশের আলোচনায় চীনা বিনিয়োগ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগেও উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারির বৈঠকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম উদ্বোধনের সময়ও তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন।
সোমবারের বৈঠকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।