বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক,
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিন বাহিনীর প্রধানদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয় — সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শৈথিল্য থাকবে না।”
বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক,
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিন বাহিনীর প্রধানদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয় — সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শৈথিল্য থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন নির্বাচনেও যেন একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হয়, সেটিই এখন আমাদের অগ্রাধিকার।”
বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। জানা গেছে, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ৯০ হাজার সেনাসদস্য, আড়াই হাজার নৌসদস্য এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক বিমানবাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সেনা কোম্পানি মোতায়েন থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া, বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সভা শেষে তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিন বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের সময় জনগণ যেন নিরাপদ ও স্বস্তিতে ভোট দিতে পারেন — সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”