ট্রাম্পের যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি: শক্তিশালী আমেরিকা গড়ার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
“যে পৃথিবীতে শক্তির জন্য চীন ও রাশিয়া প্রতিযোগিতা করছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের প্রযুক্তিতে, নিজের নিয়ন্ত্রণে এগোতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যেই নেওয়া।”
ট্রাম্পের যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি: শক্তিশালী আমেরিকা গড়ার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
৩১ অক্টোবর (CSB NEWS USA | ওয়াশিংটন): যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প। ৮০ বিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে। সমালোচকদের আশঙ্কা সত্ত্বেও, প্রশাসন বলছে — এটি জাতি ও পরিবেশের ভবিষ্যতের জন্য এক দূরদর্শী বিনিয়োগ।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার Westinghouse Electric, Cameco (কানাডা), এবং Brookfield Asset Management-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। সরকারের ভূমিকা থাকবে অর্থায়ন, পারমিট প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সমর্থনে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভবিষ্যতে কোম্পানির ২০% লাভ এবং সম্ভাব্য ২০% মালিকানা অর্জনের সুযোগ পাবে, যদি কোম্পানির বাজারমূল্য ২০২৯ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
🔹 মূল লক্ষ্য: আগামী দশকের মধ্যে অন্তত ১০টি নতুন, অত্যাধুনিক ও নিরাপদ Westinghouse AP1000 রিঅ্যাক্টর নির্মাণ, যা কয়েক কোটি আমেরিকানের জন্য বিশুদ্ধ ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
যেখানে বিশ্বের বহু দেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত কার্বন নির্গমন শূন্যের পথে আমেরিকার এক বড় পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞ টড অ্যালেন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী, বলেন:
“ওয়েস্টিংহাউসের আধুনিক রিঅ্যাক্টরগুলো পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-দক্ষ। এগুলোই ভবিষ্যতের পরিষ্কার শক্তি।”
প্যাট্রিক হোয়াইট, Clean Air Task Force-এর গবেষক, যোগ করেন:
“নিরাপদ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে উন্নত জ্বালানির চাবিকাঠি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ঠিক সেটিই।”
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা সেন্টার এবং প্রযুক্তি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। এই নতুন পারমাণবিক প্রকল্পগুলো সেই চাহিদা পূরণ করবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং দেশের শক্তি অবকাঠামোকে টেকসই করবে।
“আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে তথ্যই শক্তি — আর সেই শক্তিকে জ্বালানি দিতে হবে পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও আমেরিকান উৎস থেকে,” — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
নতুন প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রে দশ হাজারের বেশি উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এছাড়াও, পারমাণবিক খাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ও দেশীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়বে।
TD Cowen-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, “এই প্রকল্পের ফলে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পে ১৯৮০ সালের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোয়ার দেখা যাবে।”
হোয়াইট হাউস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে —
“নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অপরিবর্তিত আছে। নিরাপত্তার কোনো মানদণ্ডে ছাড় দেওয়া হয়নি, বরং তা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।”
ওয়েস্টিংহাউসের নতুন AP1000 রিঅ্যাক্টরগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধিকারী বলা হয়। এগুলোর Passive Cooling System এমনভাবে নকশা করা, যা জরুরি অবস্থায় মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিঅ্যাক্টর ঠান্ডা রাখতে সক্ষম।
সমালোচকদের মতে এটি “বাণিজ্যিক লাভের” পদক্ষেপ হলেও, বাস্তবে এটি জ্বালানি স্বাধীনতা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন:
“যে পৃথিবীতে শক্তির জন্য চীন ও রাশিয়া প্রতিযোগিতা করছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের প্রযুক্তিতে, নিজের নিয়ন্ত্রণে এগোতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যেই নেওয়া।”
এই চুক্তি শুধু একটি বিনিয়োগ নয় — এটি আমেরিকার শক্তি-স্বাধীনতা, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব, ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের এক দিকনির্দেশনা।
CSB NEWS USA বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমেরিকাকে আবারও পারমাণবিক শক্তির অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে — নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের ভারসাম্য রক্ষা করে।