নিউইয়র্কের স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিন টাইম কমানোর দাবিতে নতুন বিতর্ক

নিউইয়র্কের স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন সময় কমাতে সিটি কাউন্সিলে উঠল নতুন প্রস্তাব ও বিতর্ক।

নিউইয়র্কের স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিন টাইম কমানোর দাবিতে নতুন বিতর্ক

নিউইয়র্কের স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিন টাইম কমানোর দাবিতে নতুন বিতর্ক


নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলের দেওয়া ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে ইউটিউব ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৯ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের একটি শুনানিতে। সেখানে কাউন্সিলের সদস্য শেখর কৃষ্ণান ও এরিক ডিনোভিৎস স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুনানিতে ইউটিউব ছাড়াও শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিভাইস, শিক্ষামূলক অ্যাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা স্কট স্ট্রিকল্যান্ড কাউন্সিলের শুনানিতে জানান, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলের দেওয়া ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউটিউবের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠের অংশ হিসেবে যেসব ভিডিও শিক্ষার্থীদের দেন, সেগুলো দেখার সুযোগ থাকবে।

অর্থাৎ, “নিউইয়র্কের সব স্কুলে ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ”—এমন দাবি সঠিক নয়। বর্তমানে মূল বিষয়টি হলো স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে সাধারণ ইউটিউব ব্যবহারে বিধিনিষেধ এবং নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ব্যতিক্রম।

এর পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যেকের হাতে আলাদা ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার ব্যবস্থা কমানো, কিছু গেমভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজে-কলমে শেখানো ও পরীক্ষা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা।

কাউন্সিল সদস্যদের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—শিক্ষার্থীদের হাতে বেশি প্রযুক্তি থাকলেই যে শিক্ষার ফলাফল উন্নত হবে, এমন প্রমাণ সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। কাউন্সিলের শুনানিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

তবে শিক্ষা বিভাগ প্রযুক্তির সব ব্যবহার বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শুনানিতে প্রথম ডেপুটি চ্যান্সেলর ড্যানিয়েল জিউন্টা বলেন, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহার হলে সেটি উদ্দেশ্যপূর্ণ ও সক্রিয় শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত; শিক্ষার্থীদের শুধু একটি ডিভাইসের সামনে বসিয়ে রাখার বিষয়টি তারা চান না।

ইউটিউব নিয়ে বিতর্কের পেছনে আরও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইস—যার মধ্যে স্মার্টফোনও রয়েছে—স্কুল চলাকালে ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। অনুমোদিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই নিয়ম প্রযোজ্য।

এর আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়েও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কে-১২ স্কুলে স্কুল চলাকালে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে ঘণ্টা থেকে ঘণ্টা বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। তবে স্থানীয় স্কুলগুলোকে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক অবস্থান শুধু ইউটিউবেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি মাসের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও এক বছরের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ইউটিউব, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিবেচনা চলছে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত আইন হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্যরা আরও কঠোর বিধিনিষেধের দাবি তুলেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে এসব প্রস্তাব ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউইয়র্কের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা থাকবে, কোন বয়সে কতটা থাকবে এবং কোন ধরনের প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য কার্যকর—এ প্রশ্নগুলোই এখন সিটি কাউন্সিল ও শিক্ষা বিভাগের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর