নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মরণে মামদানি, মুসলিম কমিউনিটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে মামদানির শ্রদ্ধা, মুসলিম কমিউনিটির পাশে সংহতির বার্তা; তবে তাঁর অংশগ্রহণ ঘিরে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কও।
নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মরণে মামদানি, মুসলিম কমিউনিটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন স্মরণ ও আন্তধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজকের প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর অংশগ্রহণকে ঘিরে যেমন সমর্থন দেখা গেছে, তেমনি কিছু রাজনৈতিক ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তিও উঠেছে।
৯/১১-এর আগের দিন আন্তধর্মীয় ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম পিস ওয়াক’-এ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। খ্রিস্টান, ইহুদি ও মুসলিম উপাসনালয়ের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই পদযাত্রার শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক ইসলামিক সেন্টারে। সেখানে মামদানি অংশ নিয়ে হামলায় নিহত মানুষ এবং প্রথম সাড়াদানকারী ও উদ্ধারকর্মীদের শ্রদ্ধা জানান।
তবে মামদানির অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কিছু ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ তাঁকে আনুষ্ঠানিক ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এ দাবির পক্ষে একটি আবেদনে এক লাখের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের আন্তধর্মীয় সংগঠনগুলো মামদানির অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইন্টারফেইথ সেন্টার অব নিউইয়র্ক বলেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন নির্বাচিত মেয়রকে স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার দাবি বৈষম্যমূলক। সংগঠনটি ৯/১১-এর নিহতদের স্মরণ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
মামদানি নিজেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ৯/১১-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, হামলার পর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। আজকের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি নিহতদের নাম পাঠের সময় উপস্থিত থাকার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
এদিকে নিউইয়র্কে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক জরিপে প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শহরের মেয়র হিসেবে মামদানির ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উচিত। ফলে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর উপস্থিতিকে সমর্থন করার জনমতও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই ঘটনা নিউইয়র্কের বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ৯/১১-এর পর মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সন্দেহের অভিজ্ঞতা তৈরি হলেও ২৫ বছর পর নিউইয়র্কে একজন মুসলিম মেয়রের নেতৃত্বে নিহতদের স্মরণ এবং আন্তধর্মীয় ঐক্যের বার্তা শহরের পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।