ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ: আইসিজের “রাজনৈতিক রায়” ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

আইসিজের পক্ষপাতমূলক রায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ: “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, হামাসকে আড়াল দেওয়া হয়েছে”

PostImage

ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ: আইসিজের “রাজনৈতিক রায়” ইসরায়েলের বিরুদ্ধে


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অব্যাহত প্রচেষ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) ইসরায়েলবিরোধী এক ‘রাজনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক’ রায় দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে হোয়াইট হাউস।


ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়কে “Another corrupt ruling” বা “আরেকটি দুর্নীতিগ্রস্ত সিদ্ধান্ত” আখ্যা দিয়ে বলেছে, আইসিজে এবারও তার advisory opinion ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।


হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—


> “যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেক্রেটারি রুবিও নিরলসভাবে অঞ্চলে শান্তি আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তখন এই তথাকথিত আদালত একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতামত দিয়েছে। এই রায়ে ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়েছে এবং হামাস-সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও UNRWA-কে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”




বিবৃতিতে আরও বলা হয়,


> “ICJ-এর এই পরামর্শমূলক মতামত কোনো বাধ্যতামূলক রায় নয়, কিন্তু এটি স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতটি এখন আমেরিকাবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।”





---


হোয়াইট হাউসের বার্তা: ‘আমেরিকা নিরপেক্ষ শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’


ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে সৌদি আরব, মিসর ও জর্ডানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,


> “আমরা ন্যায়ভিত্তিক শান্তিতে বিশ্বাস করি—যেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিনি জনগণের স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ দুটোই সমানভাবে বিবেচনায় থাকবে। কিন্তু আইসিজের এই পক্ষপাতমূলক মতামত সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।”





---


আইসিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড়


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইসিজের সাম্প্রতিক এই advisory opinion মূলত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুরোধে দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলের দখলনীতি ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সামরিক কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই মতামত কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না এবং আদালত তার এখতিয়ার ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।



---


 আইসিজে এখন ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’


বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। আইসিজের বিরুদ্ধে এর আগে আফগানিস্তান যুদ্ধ ও ইরান নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত মামলাতেও একই অভিযোগ তুলেছিল ওয়াশিংটন।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর