পেন্টাগনে সাংবাদিক প্রবেশে নতুন নীতি — ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত

“গোপন সামরিক কৌশল বা অপারেশনাল তথ্যের অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ শত্রু রাষ্ট্রের কাছে সুবিধা এনে দিতে পারে। তাই পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি ছিল।”

PostImage

পেন্টাগনে সাংবাদিক প্রবেশে নতুন নীতি — ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) সম্পর্কিত সাংবাদিক কার্যক্রমের ওপর নতুন কিছু কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপটি দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার রোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে গৃহীত এই নীতিতে সাংবাদিকদের জন্য বেশ কিছু নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • পেন্টাগনের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতি নেওয়া,

  • সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি সাক্ষাৎকার বা তথ্য চাওয়ার আগে অনুমোদন,

  • সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত, এবং

  • সাংবাদিকদের একটি নথিতে স্বাক্ষর করে নীতিগুলো “স্বীকার” করার প্রয়োজনীয়তা।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,

“আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করা প্রথম দায়িত্ব। প্রেস অনেক সময় এমনভাবে কাজ করে, যা বিশ্বশান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই নিয়মগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক “তথ্য ফাঁস” বা leak ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিল। এসব ঘটনা রোধ করতেই পেন্টাগনের নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে।

অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে দেখছেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্ক ডগলাস বলেন —

“গোপন সামরিক কৌশল বা অপারেশনাল তথ্যের অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ শত্রু রাষ্ট্রের কাছে সুবিধা এনে দিতে পারে। তাই পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি ছিল।”

তিনি আরও বলেন,

“প্রেস স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ঝুঁকি নিতে পারে না।”

যদিও সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছে, প্রশাসন বলছে এটি “প্রেস-বিরোধী নয়, বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য একটি কাঠামো।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন,

“আমরা সংবাদমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে দেখি না। আমরা শুধু চাই তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকুক।”

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা — এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
একদিকে সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে প্রশাসন মনে করছে এই পদক্ষেপ দেশকে নিরাপদ রাখার একটি অপরিহার্য ধাপ।

অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন,

“এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার একটি নতুন অধ্যায়।”

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রেসকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা, সামরিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সংবেদনশীল তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্যই নেওয়া হয়েছে।

যদিও এই পদক্ষেপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, প্রশাসন বলছে —

“জাতীয় নিরাপত্তা কোনো আপসের বিষয় নয়; প্রেস স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্যই হবে ভবিষ্যতের পথ।”

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর