লুইজিয়ানার নির্বাচনী মানচিত্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে উত্তপ্ত বিতর্ক

অ্যালিটো প্রশ্ন তোলেন, “যদি দেখা যায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের এবং শ্বেতাঙ্গরা রিপাবলিকানদের সমর্থন করে, তবে কি এটাকে জাতিগত ভোট বলা হবে, নাকি শুধুই দলীয় পছন্দ?” জবাবে নেলসন বলেন, “যদিও দলীয় সমর্থন জাতির সঙ্গে মিলে যেতে পারে, তবু এটিই প্রমাণ করে যে জাতিগতভাবে বিভক্ত ভোট এখনো বাস্তব।”

PostImage

লুইজিয়ানার নির্বাচনী মানচিত্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে উত্তপ্ত বিতর্ক


ওয়াশিংটন, অক্টোবর ১৬ — মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে লুইজিয়ানার কংগ্রেশনাল মানচিত্র নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র আইনি বিতর্ক। বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো জিজ্ঞেস করেন, “দলীয় সুবিধা নেওয়া কি কোনো আইনসভা বৈধভাবে করতে পারে না?” এর জবাবে বাদীপক্ষের আইনজীবী নেলসন বলেন, “না, যদি সেই দলীয় সীমারেখা আঁকা সমতার সাংবিধানিক নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

২০২০ সালের জনগণনা শেষে লুইজিয়ানা আইনসভা মাত্র একটি কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনসহ নতুন মানচিত্র অনুমোদন করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি দল মামলা করে এবং ফেডারেল আদালত তাদের পক্ষেই রায় দেয়।

পরবর্তীতে পুনর্নির্মিত মানচিত্রে দ্বিতীয় একটি কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা যুক্ত করা হলে, ১২ জন শ্বেতাঙ্গ ভোটার পাল্টা মামলা করেন। তারা অভিযোগ করেন, এই নতুন মানচিত্র “অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে।” বর্তমানে লুইজিয়ানার মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই শ্বেতাঙ্গ।

তিন বিচারকের এক প্যানেল ২–১ ভোটে রায় দেয় যে নতুন মানচিত্রে জাতিগত দিককে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের সমতার নীতি লঙ্ঘন করে। এরপরই মামলাটি আপিল হয়ে সুপ্রিম কোর্টে ওঠে।

বিচারপতি এলিনা কাগান বলেন, যদি ভোটাধিকারের আইন ভোটের প্রভাব হ্রাস রোধ করতে না পারে, তবে “ফলাফল হবে ভয়াবহ।” নেলসন যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মূলত এমন সব মামলার মাধ্যমেই, যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছে।

অ্যালিটো প্রশ্ন তোলেন, “যদি দেখা যায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের এবং শ্বেতাঙ্গরা রিপাবলিকানদের সমর্থন করে, তবে কি এটাকে জাতিগত ভোট বলা হবে, নাকি শুধুই দলীয় পছন্দ?”
জবাবে নেলসন বলেন, “যদিও দলীয় সমর্থন জাতির সঙ্গে মিলে যেতে পারে, তবু এটিই প্রমাণ করে যে জাতিগতভাবে বিভক্ত ভোট এখনো বাস্তব।”

নেলসন আরও বলেন, লুইজিয়ানায় কখনো কোনো কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী রাজ্যব্যাপী পদে নির্বাচিত হননি — যা দেখায় জাতি এখনো রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব রাখছে।

লুইজিয়ানার অবস্থান পরিবর্তন

এই মামলা এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্টে শুনানি পেল। মার্চে এক দফা শুনানির পর জুনে আদালত রায় না দিয়ে নতুন শুনানির নির্দেশ দেয়।

প্রথমে লুইজিয়ানা সরকার কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে গেছে। রাজ্যের রিপাবলিকান সলিসিটর জেনারেল বেনজামিন আগুইনাগা বলেন, “জাতি-নির্ভর পুনর্বিন্যাস সংবিধানের পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “এই মানচিত্রে এমন ধারণা কাজ করছে যে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার কেবলমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ বলেই অন্য কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মতো ভাববে বা একই প্রার্থীকেই সমর্থন করবে — যা মূলত জাতিগত স্টেরিওটাইপ।”

বিচারপতি কাগান বলেন, আগুইনাগার যুক্তিগুলো “গত কয়েক দশকে বারবার এই আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে — এমনকি তিন বছর আগেও।”

অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভোটাধিকার আইন–এর বিরোধিতা করছে অন্য আইনি যুক্তিতে। বিচার বিভাগীয় আইনজীবী হাশিম মুপ্পান বলেন, “সংবিধান মূলত বর্ণনিরপেক্ষ (colorblind)।”

২০১৩ সালে আলাবামার শেলবি কাউন্টি বনাম হোল্ডার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ভোটাধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল করে দেয়, যা অতীতে বৈষম্যের ইতিহাস থাকা রাজ্যগুলোকে ভোট সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের জন্য ফেডারেল অনুমোদন নিতে বাধ্য করত।

তবে ২০২৩ সালে আদালত ৫–৪ ভোটে রায় দেয় যে আলাবামার রিপাবলিকান-নির্মিত মানচিত্র সেকশন ২ লঙ্ঘন করেছে এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের দাবির পক্ষে রায় দেয়। সেই রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ লিবারেল বিচারকদের সঙ্গে যুক্ত হন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় আগামী জুন মাসের মধ্যে ঘোষিত হওয়ার কথা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর