নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা বন্ধের আইন, ১৫ শেরিফের মামলা

নিউইয়র্কে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের আইন, ১৫ কাউন্টির শেরিফের আদালতে মামলা, বাড়ছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক।

নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা বন্ধের আইন, ১৫ শেরিফের মামলা

নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা বন্ধের আইন, ১৫ শেরিফের মামলা


নিউইয়র্কে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন রাজ্যের ১৫টি কাউন্টির শেরিফ। ২৫ আগস্ট আলবানির ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।

নতুন আইনটি স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ কার্যালয়কে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সহযোগিতা চুক্তি করা কিংবা চালু রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কারাগার, কিশোর আটককেন্দ্র ও যুব সংশোধনকেন্দ্রে শুধু দেওয়ানি অভিবাসন অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মামলাকারী শেরিফদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তিগুলো কংগ্রেস অনুমোদিত আইনের আওতায় করা হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত শেরিফদের এসব চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করতে পারে কি না, সেটিই মামলার অন্যতম প্রধান প্রশ্ন। 

শেরিফদের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জরুরি সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নতুন আইন প্রয়োগ করে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে চাইছেন।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস নতুন আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হলো স্থানীয় অপরাধ দমন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় জনবল ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করা তাদের দায়িত্ব নয়।

রাজ্য সরকারের মতে, নতুন আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্তে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দেবে। তবে মামলাকারী শেরিফদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করলে জননিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২৮৭(জি) নামে পরিচিত একটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও অনুমোদনের অধীনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করতে পারেন। নিউইয়র্কের নতুন আইন এই ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও নিউইয়র্কের নতুন আইন নিয়ে আলাদাভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু শেরিফ ও রাজ্য সরকারের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়েও বড় আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে নিউইয়র্কের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে। একই সঙ্গে এই মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর