ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অভিনন্দন পেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অভিনন্দন পেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অভিনন্দন পেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল


বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শুক্রবার পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর সফল মেয়াদ কামনা করেন।

দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর প্রত্যাশা, এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এই নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক; অন্যদিকে নির্বাহী সরকারের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন এমন এক সময়ে এলো, যখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে বলে ভারতের রাষ্ট্রপতির বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এসব দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁকে বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দেশীয় রাজনৈতিক মহলেও তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারাও নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনকে তাই শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা হিসেবে নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর